রাবি: নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি পিএলসি (নেসকো)-এর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগের খবরে রাজশাহীতে চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেছেন, নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকা উচিত।
রাহী বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে রাজশাহী থেকেই পরিচালিত হচ্ছে। প্রশাসনিক সুবিধা ও উত্তরাঞ্চলের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই রাখা প্রয়োজন।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী শহর বিভাগের কেন্দ্র হওয়ায় এবং দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ধারাবাহিকতার কারণে এ কার্যালয় অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া রাজশাহীবাসীর জন্য দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের প্রস্তাব দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে একটি আধা-সরকারি চিঠি (ডিও লেটার) পাঠিয়েছেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, নেসকোর কার্যক্রম উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া থেকে শুরু করে দক্ষিণ-পশ্চিমের চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও পূর্ব-দক্ষিণের পাবনা পর্যন্ত বিস্তৃত। সদর দফতর রাজশাহীতে হওয়ায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন কাজ সময়মতো সম্পন্ন করা কঠিন হচ্ছে বলেও চিঠিতে অভিযোগ করা হয়।
চিঠিতে দাবি করা হয়, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যবর্তী স্থানে বগুড়া থাকায় এই অঞ্চলে নেসকোর সদর দফতর স্থাপন করা হলে প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতি আসবে, রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং গ্রাহকসেবার মান উন্নত হবে।
পরে প্রতিমন্ত্রীর ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিভাগ সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে। গত ৩ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয়) মোহাম্মদ সানাউল হককে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
এদিকে, এই কমিটি গঠনের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদ দেখা গেছে। নেসকোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও এ নিয়ে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।