সিলেট: সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার প্রবাসী সালেহ উদ্দিন ওরফে আহমেদ আলীর মরদেহ অবশেষে ১১ দিন পর নিজ বাড়িতে পৌঁছেছে। প্রিয়জনের মরদেহ ঘরে ফিরতেই স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠেছে পুরো এলাকা।
সোমবার (৯ মার্চ) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার গাজিটেকা গ্রামে তার বাড়িতে মরদেহ পৌঁছে। পরে বিকেল ৫টার দিকে জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে তাকে দাফন করা হয়।
তার মরদেহ এক নজর দেখার জন্য আত্মীয়স্বজন-প্রতিবেশীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষের উপস্থিতিতে পুরো গ্রাম লোকে লোকারণ্যে ভরে ওঠে।
দীর্ঘদিন পর সালেহ আহমেদকে ফিরে পেলেও কফিনে তার নিথর দেহ জন্ম মাটিতে আসবে এ দৃশ্য দেখে শোকের মাতমে ভেঙে পড়েন স্বজনরা।
সালেহ আহমদের জানাজায় উপস্থিত সাংবাদিকদের আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে মরদেহ দেশে আনতে সক্ষম হয়েছি। নিহত সালেহ আহমেদের পরিবারকে যতটুকু সাহায্য করা প্রয়োজন ততটুকু করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘সালেহ আহমদের ছেলেকে একটি চাকরি বা সরকারের পক্ষ থেকে যেকোনো ভাবে সাহায্য করা হবে। এরইমধ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কিছুটা সহযোগিতা করা হয়েছে।’
এর আগে দুপুর ১২টার দিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সালেহ আহমদের মরদেহ গ্রহণ করেন বাংলাদেশ সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মন্ত্রী নিজেই মরদেহ নিয়ে বড়লেখায় তার বাড়িতে পৌঁছে দেন। এ সময় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
উল্লখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমান শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিনি নিহত হন। সেখানে তিনি পানি সরবরাহকারী একটি কোম্পানির গাড়ির চালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। নিহতের পরিবারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি দীর্ঘ ৩৫ বছর থেকে প্রবাসে কর্মরত রয়েছেন।