Saturday 07 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রাজশাহীতে চাঁদাবাজি ইস্যুতে শিক্ষককে মারধর, ২ ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৭ মার্চ ২০২৬ ২১:১৫

রাজশাহী: রাজশাহীতে চাঁদা না পেয়ে এক কলেজ শিক্ষককে মারধরের ঘটনায় দুই ছাত্রদল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৭ মার্চ) আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, শুক্রবার রাতে পুলিশ ভুক্তভোগী শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েলের দায়ের করা মামলায় তাদেরকে গ্রেফতার করে।

ভুক্তভোগী শিক্ষক জুয়েল রাজশাহী মহানগরের শাহ মখদুম কলেজের সহকারী অধ্যাপক। গ্রেফতাররা হলেন- একই কলেজের শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পদক আব্দুল্লাহ আল মারুফ শিহাব এবং রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান চন্দন।

গত ৫ মার্চ থানায় দায়ের করা এজাহারে শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল উল্লেখ করেন, গত তিনমাস থেকে ছাত্রদল নেতা শিহাব এবং চন্দন তার কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছেন। তাদের দাবিকৃত চাঁদা না দেওয়ায় গত বছরের ২৬ নভেম্বর চাকু দেখিয়ে ভয়ভীতি দেখান এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। সর্বশেষ গত ৪ মার্চ বুধবার রাত ১০টার দিকে তার কাদিরগঞ্জ এলাকার বাসার নিচে তাকে একা পেয়ে মারধর করেন এবং আবারও প্রাণনাশের হুমকি দেন।

বিজ্ঞাপন

এদিকে শুক্রবার রাত ১০টায় গ্রেফতারের আগে মহানগরীর নিউমার্কেট এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন ছাত্রদল নেতা শিহাব এবং চন্দন। সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, শিক্ষক আসাদুজ্জামান জুয়েল আওয়ামী লীগের সমর্থক এবং বিভিন্নভাবে দলটির পক্ষে কাজ করেন। ওই শিক্ষক নিয়মিতভাবে কলেজে দায়িত্ব পালন করেন না এবং শিক্ষার্থীদের বিপক্ষে অবস্থান নেন।

তারা বলেন, ২০২৪ সালের আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময়ও শিক্ষক জুয়েল আওয়ামী লীগের পক্ষে কাজ করেছেন। এ ছাড়া গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মহানগরীর কুমারপাড়ায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে দলীয় ব্যানার টাঙানোর ঘটনার সঙ্গেও শিক্ষক জুয়েলের সম্পৃক্ততা রয়েছে।

এসব ঘটনার প্রতিবাদ করায় তিনি তাদের বিরুদ্ধে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তাকে মারধরের অভিযোগ করেছেন বলেও তারা দাবি করেন।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কলেজ শিক্ষক জুয়েল বলেন, তাদের অসংখ্য ভয়েস রেকর্ড আমার কাছে আছে। আমি বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের বিরোধীতা করিনি, বরং সহযোগিতা করেছি। আমি নিয়মিত কলেজে ক্লাস নিই। নিজেদের বাঁচাতে তারা এখন নানা ধরনের কথা বলছেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া থানার এসআই মিজানুর রহমান বলেন, ‘মামলার পর আসামিদের গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এখন অভিযোগের তদন্ত হবে।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর