Thursday 05 Mar 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

গাইবান্ধার দুর্গম চরাঞ্চলের অন্ধকার দূর করছে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
৫ মার্চ ২০২৬ ১৬:১৫

রসুলপুর চরে চলছে সৌর প্যানেল স্থাপনের কাজ।

গাইবান্ধা: গাইবান্ধার চরাঞ্চলের মানুষ কিছুদিন আগেও কেবল হারিকেন ও কুপিবাতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। গৃহস্থালির কাজ, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা কিংবা রাত্রিকালীন নিরাপত্তা—সবকিছুই নির্ভর করত ক্ষীণ আলোর ওপর। তবে এখন সেই অন্ধকার চরে জ্বলতে যাচ্ছে বিদ্যুতের আলো।

জেলার ফুলছড়ি উপজেলার দুর্গম রসুলপুর চরে বিদ্যুৎবিহীন ও অবহেলিত ২০টি পরিবারের ঘরে আলো পৌঁছে দিতে সোলার প্যানেল স্থাপনের কাজ চলছে।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) দুপুরে চরটির বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের কার্যক্রম দেখা যায়।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে শিক্ষার্থীদের সংগঠন গ্রিন ইয়ুথ অ্যালায়েন্স; সহযোগিতায় রয়েছে দ্য আর্থ সোসাইটি এবং অর্থায়ন করছে ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানায়, এই উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি পরিবারের জন্য পরিবেশবান্ধব ও টেকসই সোলার সিস্টেম স্থাপন করা হচ্ছে। প্রতিটি ইউনিটে সোলার প্যানেল, চার্জ কন্ট্রোলার, ব্যাটারি ও এলইডি লাইটের ব্যবস্থা রয়েছে। এরই মধ্যে প্যানেল বসানো, ব্যাটারি সংযোগ এবং প্রাথমিক বিদ্যুৎ সরবরাহের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হলে উপকারভোগী পরিবারগুলো ঘরে আলো জ্বালানো, মোবাইল চার্জ করা এবং ছোট বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে পারবে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকল্পের সুবিধাভোগী বিজু মিয়া জানান, দীর্ঘদিন ধরে চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় নানা ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের রাতের পড়াশোনা, পরিবারের নিরাপত্তা এবং জরুরি প্রয়োজনে মোবাইলফোন চার্জ করার মতো সাধারণ বিষয়েও ছিল ভোগান্তি। এ ছাড়া, সৌরবিদ্যুৎ চালু হলে শিশুদের পড়াশোনা সহজ হবে বলেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী মিম আক্তারের অনুভূতি—‘আগে হারিকেনের আলোয় পড়াশোনা করেছি, এখন বিদ্যুতের আলোয় পড়তে পারব, গরমে ফ্যানের বাতাস পাব; ভাবতেই ভালো লাগছে!’

গ্রিন ইয়ুথ অ্যালায়েন্সের প্রতিষ্ঠাতা মারুফ হাসান বলেন, ‘দুর্গম চরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। তাই টেকসই উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিকল্প জ্বালানির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

সারাবাংলা/এআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর