ঢাকা: ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান ‘ক্যাবল ওয়ান‘ ও ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’র মালিকানার ভাগ না দিলে দিনে-দুপুরে গুলি করে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে রংপুর জেলা যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনুর বিরুদ্ধে।
রোববার (১ মার্চ) বিকেলে প্রতিষ্ঠানের অফিসে হামলা চালিয়ে ম্যানেজারকে মারধর ও সরঞ্জাম ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে রংপুর জেলায় সমস্ত সেবা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে ‘ক্যাবল ওয়ান’ ও ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড।’
এদিকে পুলিশ লিখিত অভিযোগ না পেলেও মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে। আর শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের জন্য এরই মধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি গালিব ও মনুকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে।
জানা গেছে, রংপুর সদরের স্টেশন রোডে অবস্থিত ‘ক্যাবল ওয়ান’ দীর্ঘদিন ধরে রংপুর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ডিস লাইন ও ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসছে। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে রংপুর সদর উপজেলার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কামাল কাছনা এলাকায় তাদের ক্যাবল লাইন অবৈধভাবে কেটে নেওয়া হয়। এতে ওই এলাকার অসংখ্য গ্রাহক চরম ভোগান্তির শিকার হন। পরবর্তী সময়ে জানা যায়, এই ঘটনার সঙ্গে যুবদল নেতা তামজিদুর রশিদ গালিব ও তার সহযোগীরা জড়িত। পরে ক্যাবল মেরামতের চেষ্টা করলে তারা বাধা দেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ২৮ ফেব্রুয়ারি রংপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে গালিবের বিরুদ্ধে সত্য তথ্য উপস্থাপন করেন প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা। এর পরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়। ১ মার্চ বিকেল সাড়ে ৪টায় যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আকিবুল রহমান মনুর নেতৃত্বে ১৫-২০ জন লোক ‘ক্যাবল ওয়ান’ অফিসে অনধিকার প্রবেশ করে। তারা ম্যানেজার পরাগের ওপর শারীরিক হামলা চালায়, মারধর করে এবং অফিসের ল্যাপটপসহ গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম ভাঙচুর করে।
হামলার পর হামলাকারীরা প্রকাশ্যে হুমকি দেয় যে, ২ মার্চের মধ্যে কামাল কাছনা এলাকায় গালিবকে ফিডার হিসেবে নিয়োগ না দিলে ম্যানেজার পরাগসহ ‘মায়া সাইবার ওয়ার্ল্ড’র জিএম মেহেদি হাসান কাফি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দিনের আলোয় গুলি করে হত্যা করা হবে। এই হুমকি-ধামকির একটি ভিডিও সারাবাংলার হাতে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার পরাগ বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা অফিসে ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। আমরা পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত সেবা বন্ধ থাকবে।’
এ ঘটনায় রংপুরের সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন, বিশেষ করে কামাল কাছনা এলাকায় এক সপ্তাহ ধরে সেবা বন্ধ থাকায়। এক গ্রাহক মেহেদি হাসান বাঁধন বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা আমাদের জিম্মি করে রেখেছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।’
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, ‘হুমকির ভিডিও পেয়েছি। ঘটনাস্থলে টিম পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু অফিস তালাবদ্ধ ছিল। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেব।’
এদিকে ভুক্তভোগী প্রতিষ্ঠান পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে। এ বিষয়ে অভিযুক্ত রংপুর জেলা যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক তামজিদুর রশিদ গালিব বলেন, ‘কোনো অভিযোগ ঠিক না, এটা আমার হক। আদায় করার প্রস্তুতি। যারা এখন অভিযোগ করছে, তারা ২০১৫ সালের অবরোধে আমাকে ডিবি পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছিল। কারণ, আমি বিএনপির রাজনীতি করি। ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত আমি পরিচালনা করেছি। তাই এখন আমার এই হকটাকে আমি আদায় করতে চাচ্ছি। এসব লাইন অভিযোগকারীরা দখল করে এতদিন চালিয়েছে। এখন আমি আদায় করব।’
এ দিকে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে গালিব ও আকিবুল রহমান মনুকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কার করেছে। যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম নয়ন এমপি এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করেছেন।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘তাদের অপকর্মের দায় দল নেবে না। নেতাকর্মীদের তাদের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।’
ক্যাবল ওয়ান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সেবা বন্ধ থাকবে। তারা দাবি করেছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভবিষ্যতে এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।