Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

ট্রেন্ডিংয়ে ‘মিউজিক ট্যুরিজম’

নাজনীন লাকী সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৪ আগস্ট ২০২৬ ২০:৩৫

গানের সুরে ডানা মেলে দূর-দূরান্তে উড়ে যাওয়া, যেখানে প্রতিটি সুরের মূর্ছনা বুনে দেয় নতুন এক অভিজ্ঞতার গল্প, আর প্রতিটি নতুন শহর হয়ে ওঠে এক একটি সুরের ক্যানভাস! কেবল কোনো দর্শনীয় স্থানে গিয়ে ছবি তোলা কিংবা বিশ্রাম নেওয়ার প্রথাগত ছুটি এখন ইতিহাস। সুর আর ভ্রমণের এই রোমাঞ্চকর মেলবন্ধনের নামই ‘মিউজিক ট্যুরিজম’ বা সংগীত-ভিত্তিক পর্যটন। প্রিয় কোনো আন্তর্জাতিক শিল্পী, ব্যান্ড কিংবা ওপেন-এয়ার ফেস্টিভ্যালের উন্মাদনায় অচেনা কোনো শহরে বা ভিনদেশে পাড়ি দেওয়াই আধুনিক ভ্রমণপ্রেমীদের নতুন লাইফস্টাইল।

মিউজিক ট্যুরিজমের জাদুকরী আকর্ষণ

প্রথাগত ভ্রমণের চেয়ে এই ধারাটি সম্পূর্ণ আলাদা। এখানে ভ্রমণ শুধু চোখের তৃপ্তি নয়, বরং অনুভূতির গভীরে গিয়ে পৌঁছায়।

বিজ্ঞাপন

মানসিক মেলবন্ধন ও আবেগ: প্রিয় শিল্পীকে চোখের সামনে পারফর্ম করতে দেখার আনন্দ আর হাজার হাজার সমমনা মানুষের সাথে একসাথে সুর মেলানোর যে অভিজ্ঞতা, তা কোনো সাধারণ ট্রিপে পাওয়া অসম্ভব।

সংস্কৃতির রাজকীয় আদান-প্রদান: একটি আন্তর্জাতিক মিউজিক ফেস্টিভ্যালে বিশ্বজুড়ে নানা ভাষার ও সংস্কৃতির মানুষের মিলনমেলা ঘটে। গান উপভোগের পাশাপাশি অচেনা শহরের স্থানীয় খাবার, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রাকে খুব কাছ থেকে চেনা যায়।

‘সুইফটিনোমিক্স’ ও বিশ্বজনীন ট্রেন্ড: টেইলর সুইফটের মতো বিশ্বখ্যাত তারাকাদের কনসার্টকে কেন্দ্র করে দুনিয়াজুড়ে অর্থনীতিতে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়, তা প্রমাণ করে যে মানুষ এখন সুরের টানে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ছুটে যেতে দ্বিধা করে না।

বিশ্ব কাঁপানো কিছু মিউজিক ফেস্টিভ্যাল

মিউজিক ট্যুরিজমের পেছনে মূল অনুঘটক হিসেবে কাজ করে আন্তর্জাতিক কিছু আইকনিক মেগা ফেস্টিভ্যাল:

টুমোরোল্যান্ড (বেলজিয়াম): ইলেকট্রনিক ড্যান্স মিউজিক (EDM)-এর পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং কাল্পনিক থিমের এক অবিশ্বাস্য উৎসব।

গ্লাস্টনবারি ফেস্টিভ্যাল (যুক্তরাজ্য): রক, পপ, ইন্ডি থেকে শুরু করে সব ধারার সংগীতের এক বিশাল ঐতিহাসিক মেলবন্ধন।

কোচেলা (যুক্তরাষ্ট্র): ক্যালিফোর্নিয়ার মরুভূমিতে অনুষ্ঠিত এই মেগা উৎসবটি কেবল সংগীত নয়, বরং ফ্যাশন ও পপ-কালচারের এক বড় কেন্দ্রবিন্দু।

এক্সিট ফেস্টিভ্যাল (সার্বিয়া): মধ্যযুগীয় দুর্গের ব্যাকগ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত এটি পৃথিবীর অন্যতম অনন্য এক মিউজিক ইভেন্ট।

অর্থনীতি ও স্থানীয় পর্যটনে নতুন জোয়ার

মিউজিক ট্যুরিজম স্রেফ বিনোদন নয়, বরং যেকোনো দেশের অর্থনীতির চাকা ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে:

হোটেল ও আতিথেয়তা: কোনো বড় কনসার্ট বা ফেস্টিভ্যাল ঘোষিত হলেই সেই শহরের হোটেল, এয়ারবিএনবি এবং হোমস্টেগুলো শতভাগ বুকড হয়ে যায়।

পরিবহন খাতের উত্থান: বিশ্বজুড়ে বিমান সংস্থা, ট্রেন ও স্থানীয় ট্রান্সপোর্টের টিকিট বিক্রিতে হঠাৎ এক বিশাল ঢেউ আসে।

স্থানীয় ব্যবসার জোয়ার: কনসার্ট উপলক্ষে আসা লাখ লাখ পর্যটকের কারণে স্থানীয় রেস্তোরাঁ, স্ট্রিট ফুড ও হস্তশিল্পের কেনাকাটা অবিশ্বাস্য হারে বেড়ে যায়।

নতুন কর্মসংস্থান: ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে সিকিউরিটি ও গাইড হিসেবে প্রচুর সাময়িক কাজের সুযোগ তৈরি হয়।

আগামী দিনের পর্যটন দুনিয়া

তরুণ জেন-জি (Gen Z) ও মিলেনিয়ালদের হাত ধরে এটি বিশাল পরিচিতি পেলেও, বর্তমানে সব বয়সের মানুষই কনসার্ট কেন্দ্রিক ভ্রমণ পছন্দ করছেন। পর্যটন সংস্থাগুলোও এখন প্রথাগত ভ্রমণ প্যাকেজের বদলে “কনসার্ট + সাইটসিয়িং” অর্থাৎ গান ও ভ্রমণের যৌথ ডিজিটাল প্যাকেজ তৈরিতে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

সংক্ষেপে বলতে গেলে, এখন আর কেবল ক্যালেন্ডারের দীর্ঘ ছুটির জন্য বসে থাকা নয়, পছন্দের শিল্পীর গিটারের একটি ঝঙ্কার বা প্রিয় ব্যান্ডের এক ঘণ্টার লাইভ পারফর্ম্যান্সই বদলে দিচ্ছে ভ্রমণের সংজ্ঞা। বড় বড় পর্যটন সংস্থাগুলোও এখন প্রথাগত ভ্রমণ প্যাকেজ সরিয়ে “গান ও ভ্রমণ”-এর এমন সব জাদুকরী ট্রিপ ডিজাইন করছে, যেখানে এক সাথে মিশে যাচ্ছে কনসার্টের উন্মাদনা আর অচেনা শহর ঘুরে দেখার রোমাঞ্চ। কারণ সুরের কোনো সীমানা নেই, আর তাই গানের টানে বিশ্ব ঘুরে দেখার এই মুক্ত বাঁশির সুরেই নাচবে ভবিষ্যতের পর্যটন দুনিয়া!

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

নাজনীন লাকী - আরো পড়ুন
সম্পর্কিত খবর