Sunday 23 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

কোরবানির ঈদে ডায়াবেটিস রোগীদের সুস্থ থাকার উপায়

লাইফস্টাইল ডেস্ক
২৭ মে ২০২৬ ১৯:৪৯

আর মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপেক্ষা, এরপরই দেশজুড়ে উদযাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর এই উৎসবে ঘরে ঘরে নানাপদের মাংসের সুস্বাদু খাবারের আয়োজন করা হয়। তবে ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের জন্য এই সময়ে অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার ও অসচেতনতা যেন ঈদের আনন্দকে ম্লান না করে দেয়, সেজন্য কিছু জরুরি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা আবশ্যক।

আসুন জেনে নেই, রক্তে সুগারের মাত্রা ঠিক রেখে উৎসব উপভোগ করার কিছু কার্যকর উপায়…

শর্করা জাতীয় খাবারে নিয়ন্ত্রণ

উৎসবের আমেজেও দৈনিক ক্যালোরির হিসাব ভুলে গেলে চলবে না। বিশেষ করে পোলাও, বিরিয়ানি, তেহারি বা খিচুড়ির মতো উচ্চ শর্করাযুক্ত খাবার থালায় কম পরিমাণে নিতে হবে। মাংসের পদের সাথে পর্যাপ্ত পরিমাণে সালাদ ও সবজি রাখলে পেটও ভরবে এবং সুগারও নিয়ন্ত্রণে থাকবে।

বিজ্ঞাপন

চিনিমুক্ত ডেজার্ট বা মিষ্টান্ন নির্বাচন

ঈদের সকালে তৈরি সাধারণ মিষ্টি বা পায়েস রক্তে শর্করার পরিমাণ এক লাফে বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কৃত্রিম চিনিযুক্ত ডেজার্ট এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এর বদলে টকদই, এক মুঠো মিশ্র বাদাম কিংবা কম মিষ্টিযুক্ত ফলের সালাদ দিয়ে মুখ মিষ্টি করা যেতে পারে।

পানীয় পানে বুদ্ধিমত্তার পরিচয়

খাবার হজমের নাম করে অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বা প্রক্রিয়াজাত ফলের রস খাওয়া থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকুন। এগুলোর পরিবর্তে শরীর সতেজ রাখতে ডাবের পানি, লেবু-পানি, চিনি ছাড়া গ্রিন টি কিংবা আদা চা পান করুন। সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে বিশুদ্ধ পানি পানের বিষয়টি নিশ্চিত করা জরুরি।

লোকলজ্জা বা অনুরোধে অতিভোজন নয়

ঈদের দিনে আত্মীয়-স্বজন বা বন্ধুদের বাড়িতে গেলে অনেকেই অতিরিক্ত খাওয়ার অনুরোধ করেন। তবে নিজের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে সেই অনুরোধ বিনয়ের সাথে এড়িয়ে চলুন। নিজের জন্য বরাদ্দকৃত খাবার শেষ হওয়ার পরপরই খাবারের টেবিল থেকে উঠে পড়ার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।

শারীরিক সক্রিয়তা ও হাঁটাচলায় অবহেলা নয়

ছুটির দিন বা উৎসবের অজুহাতে অলস সময় কাটানো ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ক্ষতিকর। যেহেতু এই সময়ে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু ভারী খাবার খাওয়া হয়েই যায়, তাই রক্তে সুগারের ভারসাম্য বজায় রাখতে সকাল বা সন্ধ্যায় নিয়ম করে অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটুন বা হালকা ব্যায়াম করুন।

আহারের সময়সূচি ঠিক রাখা

ঈদের দিনেও প্রতিদিনের মূল খাবার খাওয়ার নির্দিষ্ট সময়গুলো যথাসম্ভব ধরে রাখার চেষ্টা করুন। কোনো কারণে দুপুরে যদি একটু বেশি খাওয়া হয়েও যায়, তবে রাতের খাবারটি একেবারে হালকা ও পরিমিত রাখুন।

চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধে নিয়মিত হওয়া

ঈদের দিন মেহমানদারি বা ঘোরাঘুরির কারণে অনেকেরই ওষুধ খাওয়ার কথা মনে থাকে না। যতই ব্যস্ততা থাকুক না কেন, ডায়াবেটিসের নির্ধারিত ওষুধ কিংবা ইনসুলিন সঠিক সময়ে গ্রহণ করতে বিন্দুমাত্র অবহেলা করা যাবে না। প্রয়োজনে মোবাইলে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখতে পারেন।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি