ঈদ মানেই নতুন পোশাক, নতুন আয়োজন। আর এই উৎসবের আমেজ পূর্ণতা পায় যখন নিজের প্রিয় ঘরটি পরিপাটি ও উৎসবমুখর থাকে। তবে ঘর সাজানো মানেই যে দামী শোপিস বা নতুন আসবাব কিনতে হবে, তা কিন্তু নয়। একটু সৃজনশীলতা আর বুদ্ধিমত্তা খাটালে পুরনো জিনিস দিয়েই ঘরকে দেওয়া যায় নতুনের ছোঁয়া।
জেনে নিন বাজেটের চিন্তা ছাড়াই এবারের ঈদে ঘর সাজানোর কিছু দারুণ কৌশল…
* আসবাবপত্রের স্থান পরিবর্তন
ঘরকে নতুন রূপ দেওয়ার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো আসবাবের জায়গা অদলবদল করা। সোফা সেটটি অন্য দেয়ালে সরিয়ে নিন অথবা খাটের দিক পরিবর্তন করুন। ডাইনিং টেবিলটি একটু ঘুরিয়ে সাজালে দেখবেন পুরো ঘরের ভিউ বদলে গেছে। এই সামান্য পরিবর্তনে আপনার চেনা ঘরটিকেই একদম নতুন মনে হবে।
* পর্দার রঙে বৈচিত্র্য
নতুন পর্দা কেনার প্রয়োজন নেই। আলমারিতে থাকা পুরনো কিন্তু উজ্জ্বল রঙের শাড়ি বা ওড়না দিয়ে তৈরি করতে পারেন চমৎকার পর্দা বা কুশন কভার। বিশেষ করে সুতি বা সিল্কের শাড়ি জানালার পর্দা হিসেবে ব্যবহার করলে ঘরে এক ধরনের আভিজাত্য ফুটে ওঠে।
* ইনডোর প্ল্যান্টের জাদু
প্রকৃতির ছোঁয়া ঘরকে মুহূর্তেই সতেজ করে তোলে। আপনার বারান্দার গাছগুলো ড্রয়িং রুমের কোণায় বা সেন্টার টেবিলের ওপর নিয়ে আসুন। সাধারণ কাঁচের বোতল বা পুরনো সিরামিকের মগে মানিপ্ল্যান্ট রেখে তা সাজাতে পারেন ডাইনিং টেবিলে। এটি ঘরের বাতাস যেমন শুদ্ধ রাখবে, তেমনি চোখেও দেবে প্রশান্তি।
* পুরনো বোতল ও কাঁচের বয়াম
ফেলে দেওয়া কাঁচের কোক বা শরবতের বোতল ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। এতে কিছু রঙিন পাথর বা পানি দিয়ে ফুল সাজিয়ে রাখুন। আপনি চাইলে এক্রাইলিক রঙ দিয়ে বোতলের গায়ে নকশা করে সেটিকে একটি সুন্দর ফুলদানিতে রূপান্তর করতে পারেন।
* আয়না ও ছবির ফ্রেম
ঘরের একঘেয়েমি কাটাতে আয়না দারুণ কাজ করে। বসার ঘরের দেয়ালে বড় একটি আয়না টাঙিয়ে দিলে ঘরটি দেখতে বড় ও উজ্জ্বল লাগে। এছাড়া পুরনো ছবির ফ্রেমগুলো নতুন করে সাজিয়ে একটি ‘মেমোরি ওয়াল’ তৈরি করতে পারেন, যা ঈদের আড্ডায় অতিথিদের নজর কাড়বে।
* আলোর সঠিক ব্যবহার
ঈদের রাতে ঘরের সাধারণ লাইটগুলো বন্ধ করে ল্যাম্পশেড বা মরিচ বাতি ব্যবহার করুন। গত বছরের পড়ে থাকা সেই পুরনো মরিচ বাতিগুলো ড্রয়িং রুমের কোণায় বা জানালার গ্রিলে পেঁচিয়ে দিন। এই মৃদু আলো ঘরে এক মায়াবী ও উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করবে।
* কুশন ও চাদরের কারিশমা
আপনার সোফায় থাকা কুশনগুলোর কভার বদলে দিন। যদি বাড়তি কভার না থাকে, তবে পুরনো নকশা করা ওড়না দিয়ে কুশনগুলো মুড়িয়ে পিন দিয়ে আটকে নিতে পারেন। এছাড়া পুরনো নকশিকাঁথা যদি থাকে, তবে সোফার ওপর সেটি বিছিয়ে দিলে ঘরে একটি দেশীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া আসবে।
ঘর সুন্দর রাখা মানে দামী জিনিসের প্রদর্শন নয়, বরং নিজের রুচি ও যত্নের বহিঃপ্রকাশ। আপনার হাতের সামান্য ছোঁয়ায় পুরনো আসবাব আর সাজসজ্জাই হয়ে উঠতে পারে নতুনের মতো উজ্জ্বল। এবারের ঈদ হোক মিতব্যয়ী কিন্তু আভিজাত্যে ভরপুর।