সকালের বাস ধরার জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, অফিসে লিফটের জন্য অপেক্ষা, কিংবা ছুটির দুপুরে একটু অলস বসে থাকা, আমাদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এমন অনেক ছোট ছোট মুহূর্ত পেরিয়ে যায়। এই ‘অবসর সময়গুলোকে’ যদি পরকালের সঞ্চয় বানানোর সুযোগ হিসেবে দেখি? রাসূলুল্লাহ (সা.) আমাদের এমন কিছু অভ্যাসের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন, যা পালনে বিন্দুমাত্র ক্লান্তি নেই, কিন্তু সওয়াবের পাল্লা হয় ভারী।
আসুন জেনে নেই, জীবনের ব্যস্ততার ফাঁকেই চর্চা করা যায় এমন কিছু সুন্দর আমল…
অন্যের বিপদে হাত বাড়ানো
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম যদি তার অপর ভাইয়ের পার্থিব কষ্ট লাঘব করে, আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের কঠিন দিনে তার কষ্ট দূর করে দেবেন। কেউ কোনো অভাবীর পাশে দাঁড়ালে, আল্লাহ দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে সাহায্য করেন। তদ্রূপ, অন্যের গোপন ত্রুটি ঢেকে রাখলে আল্লাহ তাআলাও তার অপরাধ ঢেকে রাখেন। বান্দা যতক্ষণ ভাইয়ের উপকারে ব্যস্ত থাকে, আল্লাহ তাআলাও ততক্ষণ তাকে সাহায্য করতে থাকেন। (সহিহ মুসলিম: ২৬৯৯)
একটুখানি মুচকি হাসি ও ভালো ব্যবহার
কারো সঙ্গে দেখা হলে একটু মুচকি হেসে কথা বলাকে আমরা খুবই সাধারণ বিষয় মনে করি। অথচ হাদিসে এটিকে বলা হয়েছে ‘সদকা’।
রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, কাউকে ভালো কাজের পরামর্শ দেওয়া, খারাপ কাজ থেকে বাধা দেওয়া, পথভোলাকে পথ দেখিয়ে দেওয়া, দৃষ্টিহীনকে সাহায্য করা, কিংবা রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে ফেলা, এগুলোর প্রতিটিই সদকা। এমনকি নিজের পাত্র থেকে অন্য ভাইয়ের পাত্রে পানি ঢেলে দেওয়াও সওয়াবের কাজ। (তিরমিজি: ১৯৫৬)
রাস্তায় হাঁটার সময় মুখ গম্ভীর না রেখে বা চোখ এড়িয়ে না গিয়ে, পরিচিত-অপরিচিতদের প্রতি আন্তরিক হাসি ও সালামের চর্চা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।
জিভে জিকিরের দোলা দেয়া
খুব সংক্ষিপ্ত কিন্তু আত্মাকে তৃপ্ত করে, এমন কিছু জিকির অভ্যাস বানিয়ে ফেলা যায়:
উঁচু-নিচু জায়গায়: সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠলে আল্লাহু আকবার আর নামার সময় সুবহানাল্লাহ বলা।
কাজের সূচনায়: সবসময় বিসমিল্লাহ বলে কাজ শুরু করা।
জান্নাতের অমূল্য রত্ন: রাসূল (সা.) একটি জিকিরকে জান্নাতের গুপ্তধন হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তা হলো, ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’।
কালেমা তায়্যিবা: বারংবার লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ স্মরণ করা।
দিনের শুরু ও শেষের দোয়া: ঘুমানো ও ঘুম ভাঙার মাসনুন দোয়া পাঠ করা।
জান্নাতে রোপণ: মাত্র একবার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ বললে জান্নাতে একটি খেজুর গাছ রোপণ করা হয়।
রিজিকের মর্যাদা দেওয়া (অপচয় রোধ)
খাবার অপচয় করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা মহানবী (সা.)-এর স্পষ্ট নির্দেশ। থালা বা হাত থেকে খাবারের অংশ পড়ে গেলে তা পরিষ্কার করে খেয়ে নেওয়া সুন্নাহ, যাতে তা শয়তানের খাদ্য না হয়।
প্রতিদিন কত শত মানুষ অনাহারে রাত কাটায়! তাই পরিমিত রান্না করা এবং বেঁচে যাওয়া খাবার ডাস্টবিনে না ফেলে কোনো ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে তুলে দেওয়ার মানসিকতা গড়ে তোলা উচিত।
দিনে অন্তত একটি নতুন আয়াত শেখা
স্মার্টফোনের যুগে কোরআন শেখা এখন হাতের মুঠোয়। দিনে মাত্র ৫ মিনিট সময় দিলেই কিন্তু কোরআনের একটি আয়াত মুখস্থ করা সম্ভব। দিনে একটি করে আয়াতের চর্চা রাখলে মাস শেষে পুরো একটি ছোট সূরা আপনার আয়ত্তে চলে আসবে!
মা-বাবার জন্য প্রতিদিনের ভালোবাসা
পিতামাতা জীবিত থাকলে জান্নাতের দরজা আপনার সামনে খোলা। প্রতিদিন ছোট কোনো সারপ্রাইজ বা কাজের মাধ্যমে তাদের মুখে হাসি ফোটান। আর তারা দুনিয়া ছেড়ে চলে গিয়ে থাকলে, প্রতিদিন নিয়ম করে তাদের মাগফিরাতের জন্য আল্লাহর দরবারে হাত তুলুন।