Tuesday 04 August 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment
English

অজু শুদ্ধ হওয়ার নিয়ম ও গুরুত্ব

সারাবাংলা ডেস্ক
৪ আগস্ট ২০২৬ ১৮:২৯

ইসলামে দৈনন্দিন ইবাদতের মধ্যে অজু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। পবিত্রতা অর্জনের জন্য অজুর বিকল্প নেই। তবে অনেক সময় অজু শুরুর মুহূর্তে ‘বিসমিল্লাহ’ বলতে ভুলে যাওয়া বা ইচ্ছাকৃত না পড়ার ঘটনা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে, বিসমিল্লাহ না বললে কি অজু আদৌ শুদ্ধ হবে?

ইসলামি ফেকাহবিদ ও আলেমদের মতে, অজুর শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ পাঠ করা সুন্নাত এবং অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। তাই ইচ্ছা করে এটি বাদ দেওয়া অনুচিত। তবে বিসমিল্লাহ পড়া অজুর মৌলিক ফরজ বা ওয়াজিব কাজের অন্তর্ভুক্ত নয়। ফলে কোনো ব্যক্তি ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে অজুর শুরুতে বিসমিল্লাহ না বললেও যদি অজুর চার ফরজ সঠিকভাবে আদায় করেন, তবে তার অজু সম্পূর্ণ শুদ্ধ হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

কোরআন মজিদের সুরা মায়েদার ৬ নম্বর আয়াতে অজুর চার মৌলিক ফরজের কথা স্পষ্ট করা হয়েছে। তা হলো, পুরো মুখমণ্ডল ধৌত করা, কনুইসহ দুই হাত ধোওয়া, মাথা মাসাহ করা এবং টাখনুসহ উভয় পা পরিষ্কার করা। এই কাজগুলো সঠিকভাবে পালন করলেই অজুর প্রাথমিক শর্ত পূরণ হয়ে যায়।

অজুর সুন্নাত দোয়াসমূহ ও ফজিলত

অজুকে আরও পূর্ণাঙ্গ ও ফজিলতপূর্ণ করতে প্রিয় নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) অজুর শুরু, মাঝে এবং শেষে বিশেষ কিছু দোয়া পাঠ করতেন।

অজুর সূচনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম’ পড়তেন। সুনানে আবু দাউদে হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, নবিজি (সা.) অজুর শুরুতে আল্লাহর নাম উচ্চারণ না করাকে অজুর অপূর্ণতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

অজু চলাকালীন বা অজু শেষে প্রিয় নবী (সা.) আল্লাহর কাছে পাপ ক্ষমা, বাসস্থানে প্রশস্ততা এবং রিজিকের বরকত চেয়ে দোয়া করতেন। যার অর্থ হলো: ‘হে আল্লাহ! আপনি আমার অপরাধ ক্ষমা করুন, আমার ঘর প্রশস্ত করুন এবং আমার রিজিকে বরকত দান করুন।’

এছাড়া অজু সম্পাদন করার পর নবিজি (সা.) মহান আল্লাহর একত্ববাদ ও নিজের বান্দা-রাসুল হওয়ার সাক্ষ্য দিয়ে বিশেষ একটি দোয়া পাঠ করতেন। যার মাধ্যমে তিনি আল্লাহর কাছে তওবাকারী ও পবিত্রতা অর্জনকারী বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার আরজি জানাতেন।

দোয়াটির বাংলা অর্থ: ‘আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোনো উপাস্য নেই; তিনি একক, তাঁর কোনো শরিক নেই এবং আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মদ (সা.) তাঁর বান্দা ও রাসুল। হে আল্লাহ! আমাকে তওবাকারী ও পবিত্রতা হাসিলকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।’

সুনানে তিরমিজিতে হজরত ওমর ইবনে খাত্তাব (রা.) বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সঠিকভাবে অজু শেষ করে একাগ্রচিত্তে এই দোয়া পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাতের আটটি দরজাই উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। সে নিজের পছন্দ অনুযায়ী যেকোনো দরজা দিয়ে জান্নাতে প্রবেশের সুযোগ পাবে।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর