Tuesday 26 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

কোরবানি না দিয়েও পূর্ণ সওয়াবের সুযোগ

সারাবাংলা ডেস্ক
২৬ মে ২০২৬ ১৭:১৭

পবিত্র জিলহজ মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য ইবাদত, আত্মত্যাগ ও মহান আল্লাহর পরম নৈকট্য লাভের এক পুণ্যময় মৌসুম। ইসলামে সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব হলেও, আর্থিক সংকটের কারণে অনেকের পক্ষেই পশু কোরবানি দেয়া সম্ভব হয় না। তবে পশু জবাই করতে না পারলেই যে আল্লাহর অসীম রহমত আর সওয়াব থেকে বঞ্চিত হতে হবে, বিষয়টি মোটেও তেমন নয়। ইসলাম অত্যন্ত সহজ ও মানবিক। যারা আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে কোরবানি দিতে পারছেন না, তাদের জন্য শরিয়তে রয়েছে বিশেষ কিছু আমল ও সওয়াব অর্জনের চমৎকার সুযোগ।

আসুন জেনে নেই কোরবানি না দিয়েও জিলহজ মাসের বরকত ও পুণ্য লাভের আমল …

নখ ও চুল না কাটার বিশেষ সুন্নাত

বিজ্ঞাপন

যাদের কোরবানি করার সামর্থ্য নেই, তারা জিলহজ মাসের চাঁদ ওঠার পর থেকে ১০ জিলহজ ঈদের নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত নিজেদের নখ, চুল, গোঁফ কিংবা শরীরের অন্যান্য পশম কাটা থেকে বিরত থাকতে পারেন। ঈদের নামাজের পর এগুলো কাটার মাধ্যমে একটি পূর্ণ কোরবানির সওয়াব পাওয়া যায় বলে হাদিসে উল্লেখ রয়েছে। আল্লাহর রাসুল (সা.) এক সাহাবিকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, তুমি ঈদের দিন তোমার চুল, নখ ও গোঁফ ছাঁটবে এবং নাভির নিচের অংশ পরিষ্কার করবে, আল্লাহর দরবারে এটিই তোমার কোরবানি হিসেবে গণ্য হবে। (সুনানে আবু দাউদ)

উম্মতের জন্য নবীজি (সা.)-এর কোরবানি

অসহায় ও দরিদ্র মুসলমানদের জন্য সবচেয়ে বড় মানসিক শান্তি ও সান্ত্বনা হলো, স্বয়ং বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার অক্ষম উম্মতদের পক্ষ থেকে কোরবানি করে গেছেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) পশু জবাইয়ের সময় বলেছিলেন, ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, আল্লাহ মহান। এই কোরবানি আমার এবং আমার উম্মতের মধ্যে যারা কোরবানি করতে অসমর্থ, তাদের পক্ষ থেকে।’ (জামে তিরমিজি)

জিলহজের প্রথম দশকের সাধারণ ইবাদত

পশু জবাই করতে না পারলেও জিলহজ মাসের প্রথম দশ দিনের সাধারণ ইবাদতের মূল্য অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এই দিনগুলোর নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয় আর কোনো আমল নেই। তাই এই সময়ে বেশি বেশি সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ও আল্লাহু আকবার পাঠ করা উচিত। এছাড়া ৯ জিলহজ ফজর থেকে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর ‘তাকবিরে তাশরিক’ আদায় করা ওয়াজিব।

আরাফার দিনের রোজা (৯ জিলহজ)

কোরবানি করতে না পারলেও ৯ জিলহজ অর্থাৎ আরাফাতের দিনে একটি রোজা রাখার ফজিলত অপরিসীম। মহানবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে আশা রাখি, আরাফার দিনের রোজা বান্দার আগের এক বছর এবং পরের এক বছরের গুনাহের কাফফারা বা ক্ষমা হিসেবে কবুল হবে।’ (সহিহ মুসলিম)

খাঁটি নিয়তের সওয়াব

ইসলামে নিয়ত বা ইচ্ছার গুরুত্ব অপরিসীম। কোনো মুমিনের মনে যদি এই তীব্র আকুলতা থাকে যে, সামর্থ্য থাকলে সে অবশ্যই আল্লাহর রাস্তায় পশু কোরবানি দিত, তবে এই সৎ ও খাঁটি নিয়তের কারণে দয়াময় আল্লাহ তাকে কোরবানির সওয়াব দান করতে পারেন। কারণ রাসুল (সা.) বলেছেন, সমস্ত কাজের ফলাফল নিয়তের ওপর নির্ভরশীল।

কোরবানি করতে ঋণ করা কি বাধ্যতামূলক?

ইসলামে সামর্থ্যের বাইরে কোনো বিধান চাপিয়ে দেওয়া হয়নি। যার ওপর কোরবানি ওয়াজিব নয়, তাকে ধার-দেনা বা ঋণ করে কোরবানি দিতে হবে—এমন কোনো বাধ্যবাধকতা শরিয়তে নেই। আল্লাহ মানুষের বাহ্যিক ধন-সম্পদের চেয়ে অন্তরের ভক্তি ও তাকওয়া দেখেন। পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, বরং তোমাদের তাকওয়াই তার কাছে পৌঁছায়।’ (সুরা হজ: ৩৭)

অতএব, কোরবানি দিতে না পারলেও জিলহজ মাসের এই দিনগুলোতে জিকির-আজকার, নফল রোজা এবং সুন্নাহসম্মত আমলের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা পুরোপুরি সম্ভব।