Thursday 21 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বদলি হজ: নিয়ম, যোগ্যতা ও পদ্ধতি

সারাবাংলা ডেস্ক
২১ মে ২০২৬ ১৮:১০

‎কোনো ব্যক্তির ওপর হজ ফরজ হওয়ার পর, সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও যদি তিনি হজ আদায়ে বিলম্ব করেন এবং পরবর্তীতে গুরুতর অসুস্থ বা অক্ষম হয়ে পড়েন, তবে তার পক্ষ থেকে অন্য কাউকে দিয়ে হজ করানোর নিয়ম রয়েছে। একেই ইসলামে বদলি হজ বলা হয়।

‎সাধারণত বার্ধক্যজনিত কারণে শারীরিকভাবে স্থায়ীভাবে অক্ষম, দীর্ঘমেয়াদী বা নিরাময়অযোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে এই হজ পালন করা যায়।

‎বদলি হজের ধর্মীয় বিধান

‎ইসলামে বদলি হজের পূর্ণ অনুমোদন রয়েছে। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইমরানে বলা হয়েছে:

‘মানুষের মধ্যে যারা সেখানে (বায়তুল্লাহ) যাওয়ার সামর্থ্য রাখে, তাদের ওপর আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হজ করা আবশ্যক।’

বিজ্ঞাপন

‎‎যদি কোনো ব্যক্তি স্থায়ীভাবে হজে যাওয়ার শারীরিক সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেন, তবে ওলামায়ে কেরামদের মতে তার জন্য প্রতিনিধি বা বদলি হজকারী নিয়োগ করা বৈধ।

‎বদলি হজকারী হিসেবে কাকে পাঠানো উত্তম?

‎উত্তম মাধ্যম: যিনি ইতিমধ্যে নিজের ফরজ হজ সম্পন্ন করেছেন, বদলি হজের জন্য এমন ব্যক্তিকে পাঠানোই সবচেয়ে উত্তম।

‎‎অনুত্তম মাধ্যম: যে ব্যক্তি এখনো নিজের ফরজ হজ আদায় করেননি, তাকে বদলি হজে পাঠানো মাকরুহে তানজিহি (অনুত্তম)। তবে এমন ব্যক্তি বদলি হজে গেলে হজ আদায় হয়ে যাবে, কিন্তু তা করা অনুচিত।

‎অতএব, যিনি অন্তত একবার নিজের হজ সম্পন্ন করেছেন, বদলি হজের জন্য তাকেই নির্বাচন করা উচিত।

‎বদলি হজ করার সঠিক পদ্ধতি

‎বদলি হজের মূল নিয়ম ও আনুষ্ঠানিকতা সাধারণ হজের মতোই। যেভাবে ফরজ হজ আদায় করা হয়, ঠিক একইভাবে বদলি হজও সম্পন্ন করতে হয়। তবে নিয়তের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা রয়েছে:

‎নিয়ত করা: ইহরাম বাঁধার সময় মনে মনে স্পষ্ট নিয়ত করতে হবে যে, এই হজটি অমুক ব্যক্তির পক্ষ থেকে করা হচ্ছে।

‎মৌখিক নিয়ত (উত্তম): মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত করা ভালো। যেমন: ‘আমি আমার ফুফু (বা অমুক ব্যক্তি)-র পক্ষ থেকে হজের ইহরাম করছি।’

‎তামাত্তু হজের ক্ষেত্রে: যদি তামাত্তু হজ (প্রথমে ওমরাহ ও পরে হজ) করার ইচ্ছা থাকে, তবে ওমরাহর ইহরাম ও নিয়ত করার সময়ও একইভাবে ওই ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে নিয়ত করতে হবে।

‎বদলি হজকারীর জন্য জরুরি সতর্কতা (আর্থিক সততা)

‎বদলি হজকারীর জন্য হজের পুরো অর্থ একটি পবিত্র আমানত। তাই খরচের ক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলো কঠোরভাবে লক্ষ্য রাখা উচিত:

‎‎ইনসাফপূর্ণ খরচ: যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও পানাহারের খরচ যেন সম্পূর্ণ ইনসাফের সাথে এবং পরিমিত হয়।

‎অপচয় রোধ: কোনো ধরনের অপ্রয়োজনীয় বা বিলাসী খরচ করা যাবে না।

‎টাকা ফেরত দেওয়া: হজ শেষ হওয়ার পর খরচের অতিরিক্ত যে টাকা উদ্বৃত্ত (বাকি) থাকবে, তা মূল মালিক বা তার ওয়ারিশদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া জরুরি।

‎হাদিয়া গ্রহণ: তবে হজে প্রেরণকারী ব্যক্তি যদি নিজ ইচ্ছায় উদ্বৃত্ত টাকা বদলি হজকারীকে উপহার বা হাদিয়া হিসেবে দিয়ে দেন, তবেই কেবল তিনি তা গ্রহণ করতে পারবেন।

সারাবাংলা/এনএল/এএসজি