Sunday 24 May 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হজ্জে মাবরুর বা মকবুল হজের বিশেষ কিছু নিদর্শন

সারাবাংলা ডেস্ক
২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৮:০৭

পবিত্র হজ। ফাইল ছবি

হজ প্রতিটি সামর্থ্যবান মুসলমানের জন্য একটি পরম আরাধ্য ইবাদত। অনেক শ্রম ও ত্যাগের পর একজন মুমিন আল্লাহর ঘরে হাজির হন। তবে হজের প্রকৃত সার্থকতা এর বাহ্যিক আনুষ্ঠানিকতায় নয়, বরং তা আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়ার ওপর। আর আল্লাহর দরবারে কবুল হওয়াকেই বলা হয় ‘হজ্জে মাবরুর’। কবুল হজ বা ‘হজ্জে মাবরুর’ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, গুনাহমুক্ত হজ পালনকারী ব্যক্তি নবজাতক শিশুর মতো নিষ্পাপ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

আপনার হজ কবুল হলো কি না, তা বোঝার জন্য ইসলামের মনীষীরা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে বেশ কিছু নিদর্শনের কথা উল্লেখ করেছেন …

স্বভাব ও আচরণের আমূল পরিবর্তন

বিজ্ঞাপন

হজ কবুল হওয়ার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো হাজি সাহেবের পরবর্তী জীবন। হজ থেকে ফেরার পর যদি দেখা যায় তার আচার-আচরণ ও চরিত্রে আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে এবং ইবাদতের প্রতি আগ্রহ বেড়েছে, তবে এটি কবুল হজের ইঙ্গিত। কোনো নেক আমল কবুল হয়েছে কি না তার লক্ষণ হলো, ওই আমলের পর অন্য একটি নেক কাজ করার সুযোগ পাওয়া।

পরকালের প্রতি গভীর টান

হজ্জে মাবরুরের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো দুনিয়ার মোহ কমে যাওয়া। প্রখ্যাত তাবিঈ হাসান বসরি (রহ.)-এর মতে, একজন মকবুল হাজি হজ থেকে ফেরার পর জাগতিক বিলাসিতার চেয়ে আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহের চিন্তায় বেশি মগ্ন থাকেন। যশ-খ্যাতি বা সম্পদের পাহাড় গড়ার চেয়ে পরকালীন মুক্তিই তার প্রধান লক্ষ্য হয়ে দাঁড়ায়।

অন্তরে বিশেষ প্রশান্তি অনুভব

কোনো ইবাদত যদি একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য হয়, তবে তা পালনের পর মনের ভেতর এক অদ্ভুত ভালোলাগা ও প্রশান্তি অনুভূত হয়। ইমাম গাজালি (রহ.)-এর মতে, এই স্বর্গীয় শান্তি মূলত আল্লাহর পক্ষ থেকে আমলটি কবুল হওয়ার একটি গোপন স্বীকৃতি।

গুনাহের প্রতি অনীহা ও অনুশোচনা

হজ করার পর যদি কোনো ব্যক্তির মনে অন্যায় ও পাপাচারের প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি হয় এবং তিনি ছোটখাটো ভুল করলেও দ্রুত তওবা করেন, তবে বুঝতে হবে তার হজ সার্থক হয়েছে। মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকার মানসিকতা এবং ইস্তেগফারের আধিক্য কবুল হজের অন্যতম নিদর্শন।

বিনয় ও সেবামূলক মানসিকতা

হজের শিক্ষা হলো অহংকার ত্যাগ করে সাধারণ মানুষের কাতারে দাঁড়ানো। রাসুলুল্লাহ (সা.) হজ্জে মাবরুরের দুটি গুণের কথা বলেছেন, একটি হলো মানুষকে খাওয়ানো এবং অন্যটি হলো সবার সঙ্গে সুন্দর ভাষায় কথা বলা। একজন প্রকৃত হাজি সর্বদা বিনয়ী থাকেন এবং অন্যের উপকারে নিজেকে বিলিয়ে দেন।

সুন্নাহর প্রতি অনুরাগ

হজ পরবর্তী জীবনে আল্লাহ এবং তার রাসুলের (সা.) প্রতি ভালোবাসা বৃদ্ধি পাওয়া কবুল হজের বড় আলামত। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করার প্রবল ইচ্ছা এবং দ্বীনি কাজে আত্মনিয়োগ করা মকবুল হজের বৈশিষ্ট্য।

কবুল না হওয়ার ভয় ও ইবাদতে একাগ্রতা

নিষ্ঠাবান মুমিন প্রচুর ইবাদত করার পরেও মনে মনে ভয় পান যে তার আমলটি আল্লাহর কাছে পছন্দ হলো কি না। এই বিনয় এবং ইবাদতে আরও উন্নতির চেষ্টা তাকে আল্লাহর সান্নিধ্যে পৌঁছে দেয়।