Wednesday 15 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রতিবেশী: অধিকার ও আমাদের দায়বদ্ধতা

সারাবাংলা ডেস্ক
১৫ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:১০

সামাজিক জীবনে পরিবারের পরেই যাদের স্থান, তারা হলেন প্রতিবেশী। সুখে-দুঃখে বা যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে নিকটাত্মীয়ের চেয়েও পাশের ঘরের মানুষটিই আগে এগিয়ে আসেন। ইসলামি জীবনদর্শনে প্রতিবেশীর মর্যাদা এতটাই ঊর্ধ্বে যে, পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা তাদের প্রতি সদয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সুরা নিসার ৩৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে…

‘তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো এবং তাঁর সাথে কাউকে শরিক করো না। আর সদ্ব্যবহার করো পিতা-মাতা, নিকটাত্মীয়, এতিম, মিসকিন, নিকট-প্রতিবেশী, দূর-প্রতিবেশী, পার্শ্ববর্তী সাথী, মুসাফির এবং তোমাদের অধীনস্থদের সাথে।’

পরকালীন মুক্তি ও প্রতিবেশীর নিরাপত্তা

বিজ্ঞাপন

প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া কেবল সামাজিক অপরাধ নয়, বরং এটি ঈমানের সাথে সরাসরি যুক্ত। রাসুলুল্লাহ (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদ নয়।’ (সহিহ মুসলিম)। অর্থাৎ, একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো তার আচরণে আশপাশের মানুষ শান্তিতে থাকবে।

সুন্দর সমাজ গঠনে প্রতিবেশীর সঙ্গে নিচের আচরণগুলো পরিহার করা জরুরি…

অসম্মান ও মানসিক যন্ত্রণা: কথা বা অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রতিবেশীকে ছোট করা বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা ঈমানদারের কাজ নয়। বুখারি শরিফের বর্ণনা অনুযায়ী, আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী ব্যক্তির উচিত প্রতিবেশীকে সম্মান করা।

খাবারের ক্ষেত্রে কার্পণ্য: নিজের ঘরে ভূরিভোজ হবে আর পাশের ঘরে কেউ ক্ষুধার্ত থাকবে, এমন ব্যক্তিকে নবীজি (সা.) প্রকৃত মুমিন হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। সামর্থ্য অনুযায়ী প্রতিবেশীর অভাব দূর করা আমাদের দায়িত্ব।

উপহারকে ছোট মনে করা: পারস্পরিক ভালোবাসা বাড়াতে উপহারের বিকল্প নেই। নবীজি (সা.) পরামর্শ দিয়েছেন, উপহার ছোট হলেও (যেমন- ছাগলের পায়ের খুর) তা যেন অবজ্ঞা না করা হয় এবং আন্তরিকতার সাথে গ্রহণ করা হয়।

প্রয়োজনে অনীহা: প্রতিবেশীর প্রয়োজনে নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে সাহায্য করা উচিত। এমনকি তরকারিতে একটু ঝোল বাড়িয়ে দিয়ে হলেও প্রতিবেশীর বাড়িতে পাঠানো নবীজির (সা.) একটি সুন্দর সুন্নাহ।

আধুনিক নগরায়ন ও আমাদের অবহেলা

বর্তমান ফ্ল্যাট কালচারে আমরা অনেকেই অজান্তেই প্রতিবেশীর অধিকার ক্ষুণ্ণ করছি। কিছু আচরণ যা প্রতিবেশীর জন্য অসহনীয়…

গভীর রাতে উচ্চ শব্দে গান বাজানো বা চিৎকার করা।

বারান্দা বা জানালা দিয়ে ময়লা-আবর্জনা নিচে ফেলা।

এসির পানি বা ড্রেনের পাইপ দিয়ে অন্যের জানালার ক্ষতি করা।

সিঁড়ি বা কমন স্পেসে জুতা, বাইসাইকেল বা ব্যক্তিগত মালামাল রেখে অন্যের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো।

অন্যের ব্যক্তিগত জীবনে নাক গলানো বা অহেতুক কৌতূহল দেখানো।

পরিশেষে বলা যায়, আমাদের আচরণই বলে দেয় আমাদের ঈমান কতটা মজবুত। যান্ত্রিক শহরের চার দেয়ালের মাঝে আমরা যেন একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন না হয়ে পড়ি। মনে রাখবেন, বিপদের মুহূর্তে আপনার পাশের ফ্ল্যাটের মানুষটিই সবার আগে কড়া নাড়বেন। আসুন, প্রতিবেশীর অধিকার আদায়ে সচেতন হই এবং একটি মানবিক সমাজ গড়ে তুলি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর