পরকালীন জীবনের চিরস্থায়ী ঠিকানা জান্নাত নাকি জাহান্নাম, তা নির্ধারিত হবে দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী জীবনের কর্মফলের ওপর ভিত্তি করে। এই পার্থিব জীবন মূলত একটি পরীক্ষা ক্ষেত্র। এখানে যারা মহান আল্লাহর আদেশ ও রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ মোতাবেক জীবন পরিচালনা করবেন, পরকালে তারাই সফলকাম হবেন।
পবিত্র কুরআনের সুরা আল-কাহাফের ৭ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘পৃথিবীর বুকে যা কিছু আছে, আমি সেগুলোকে এর শোভাবর্ধনকারী করেছি; যাতে মানুষকে পরীক্ষা করতে পারি যে, আমলের দিক থেকে তাদের মধ্যে কে সর্বোত্তম।’
যারা এই পরীক্ষায় সফল হবেন, তাদের জন্য রয়েছে চিরশান্তির জান্নাত। সুরা বাকারার ২৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে,
‘যারা ঈমান এনেছে এবং নেক আমল করেছে, তাদের সুসংবাদ দাও যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত, যার তলদেশ দিয়ে নদীসমূহ প্রবাহিত হয়।’
সারারাত ইবাদতের সওয়াব পাওয়ার উপায়
দয়াময় আল্লাহ তায়ালা উম্মতে মুহাম্মাদীর জন্য অল্প পরিশ্রমে বেশি সওয়াব অর্জনের অনেক সহজ পথ বাতলে দিয়েছেন। এমনই একটি সুবর্ণ সুযোগের কথা রাসুলুল্লাহ (সা.) হাদিসে বর্ণনা করেছেন। অতি ক্ষুদ্র একটি আমলের মাধ্যমে সারারাত তাহাজ্জুদ বা নফল নামাজ পড়ার সওয়াব লাভ করা সম্ভব।
আমলটি হলো: জামাতের সাথে এশা ও ফজরের নামাজ আদায় করা।
হযরত উসমান ইবনে আফফান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন,
‘যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতের সাথে আদায় করল, সে যেন অর্ধেক রাত পর্যন্ত নফল নামাজ আদায় করল। আর যে ব্যক্তি এশা ও ফজর উভয় নামাজ জামাতের সাথে আদায় করল, সে যেন সারা রাত জেগে নফল নামাজ আদায় করল।’ (সুনান তিরমিজি ও সুনান আবু দাউদ)
আমাদের করণীয়
শীতের রাত হোক কিংবা গরমের ক্লান্তি, আধুনিক ব্যস্ত জীবনে রাতের আরামের ঘুম নষ্ট না করেও আমরা চাইলে পুরো রাতের ইবাদতের সওয়াব নিজেদের আমলনামায় যোগ করতে পারি। এর জন্য প্রয়োজন শুধু একটু সদিচ্ছা ও নিয়মানুবর্তিতা।
এশা ও ফজরের ওয়াক্তে অলসতা ত্যাগ করে মসজিদে গিয়ে জামাতে শামিল হওয়ার অভ্যাস গড়তে পারলে আমাদের পরকালের পাল্লা ভারী হবে অতি সহজেই।