ইসলামের অন্যতম মৌলিক স্তম্ভ হজ পালনের ইচ্ছা যাদের মনে আছে, তাদের জন্য ২০২৬ সালের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে এখনই। ২০২৬ সালের মে মাসের শেষভাগে অনুষ্ঠিত হতে পারে এই পবিত্র মাহেন্দ্রক্ষণ। নিজেকে আধ্যাত্মিক ও শারীরিকভাবে প্রস্তুত করার এখনই উপযুক্ত সময়।
হজের সম্ভাব্য সময়সূচি
জিলহজ মাসের চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের হজের তারিখ নির্ধারিত হবে। ধারণা করা হচ্ছে…
* হজ শুরু: ২৫ মে (৮ জিলহজ)।
* আরাফাতের দিন (মূল হজ): ২৬ মে (৯ জিলহজ)।
* ঈদুল আজহা: ২৭ মে।
নিবন্ধন ও দাপ্তরিক গুরুত্ব
হজে যাওয়ার প্রাথমিক এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো সময়মতো নিবন্ধন। সৌদি সরকারের কোটা অনুযায়ী সরকারি বা অনুমোদিত বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে দ্রুত নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা প্রয়োজন।
* আপনার হজের খরচ এবং যাতায়াত ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনি কোন ধরণের প্যাকেজ ও আবাসন ব্যবস্থা নির্বাচন করছেন তার ওপর। তাই পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র এখনই গুছিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
হজের প্রকারভেদ ও নিয়মাবলী
হজ মূলত তিনভাবে পালন করা যায়: তামাত্তু, কিরান ও ইফরাদ। যারা প্রথমবার যাচ্ছেন, আলেমদের মতে তাদের জন্য ‘তামাত্তু’ হজ পালন করা কিছুটা সহজ ও সুবিধাজনক।
* ইহরাম: মক্কায় প্রবেশের আগে নির্ধারিত মিকাত থেকে ইহরাম বাঁধা বাধ্যতামূলক।
* তাওয়াফ ও সাঈ: কাবার চারপাশ প্রদক্ষিণ (তাওয়াফ) এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ে দৌড়ানো (সাঈ) হজের অন্যতম প্রধান কাজ।
* মূল স্তম্ভ: আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করা ছাড়া হজ পূর্ণাঙ্গ হয় না।
শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি
হজ শুধু আধ্যাত্মিক নয়, বরং একটি কঠোর শারীরিক ইবাদতও বটে। মরুভূমির উত্তাপ ও দীর্ঘ পথ হাঁটার সক্ষমতা তৈরির জন্য এখন থেকেই নিয়মিত হাঁটাচলা এবং পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলুন।
* শেখার মানসিকতা: হজের প্রতিটি মাসআলা বা নিয়ম ভালোভাবে আত্মস্থ করুন।
* সংযম: পবিত্র সফরে থাকাকালীন যেকোনো ধরনের বিবাদ বা অতিরিক্ত ছবি তোলা (সেলফি সংস্কৃতি) থেকে বিরত থেকে কেবল ইবাদতে মগ্ন থাকার চেষ্টা করুন।
উল্লেখ্য, পবিত্র হজ একজন মানুষের জীবনকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ দেয়। আপনি যদি ২০২৬ সালে আল্লাহর মেহমান হতে চান, তবে আজ থেকেই নিয়ত খাঁটি করুন এবং নিজেকে দাপ্তরিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত রাখুন। এই পবিত্র সফর হোক আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যম।