Sunday 05 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

হালাল জীবিকা: সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান শর্ত

সারাবাংলা ডেস্ক
৩১ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩৮

পৃথিবীর বুকে মানুষের সুস্থ ও সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার জন্য হালাল জীবিকা একটি অন্যতম প্রধান শর্ত। মহান আল্লাহ তার বান্দাদের জন্য পবিত্র রিজিক গ্রহণ করা আবশ্যক করেছেন। পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে বিশ্বাসীগণ! আমি তোমাদের যে পবিত্র রিজিক দিয়েছি, তা থেকে ভক্ষণ করো এবং আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, যদি তোমরা কেবল তাঁরই দাসত্ব করো।’ (সূরা বাকারা: ১৭২)

হারাম পথে উপার্জিত অর্থ সাময়িক সুখ দিলেও তা মানুষের ইহকাল ও পরকালকে ধ্বংসের অতলে তলিয়ে দেয়। এর ক্ষতিকর কিছু দিক নিচে আলোচনা করা হলো:

সৃষ্টিকর্তার অসন্তুষ্টি: আল্লাহর আইন অমান্য করে উপার্জিত অর্থ প্রভুর ক্রোধ ডেকে আনে। যারা জাগতিক লোভের বশে অসদুপায় অবলম্বন করে, তারা চিরস্থায়ী আখেরাতকে হারিয়ে ফেলে।

বিজ্ঞাপন

রাসূলের (সা.) অভিশাপ: সুদি লেনদেন এবং ঘুষের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ওপর আল্লাহর রাসূল (সা.) কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী ও এর সাক্ষীদের অভিশাপ দিয়েছেন এবং ঘুষদাতা-গ্রহীতা উভয়কেই অভিশপ্ত বলেছেন।

প্রার্থনা কবুল না হওয়া: হারাম খাদ্যে পুষ্ট শরীরের কোনো দোয়া আল্লাহর দরবারে পৌঁছায় না। রাসূলুল্লাহ (সা.) এক ক্লান্ত মুসাফিরের উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, যার পোশাক, খাবার ও জীবনযাপন হারাম, তার আকুল আবেদন কীভাবে কবুল হতে পারে?

বরকতহীন জীবন ও অনিবার্য ধ্বংস: সুদের মাধ্যমে আপাতদৃষ্টিতে সম্পদ বাড়তে দেখা গেলেও তা একসময় সমূলে বিনাশ হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে সুদকে নিশ্চিহ্ন করার এবং দান-সদকায় বরকত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, সুদখোরদের বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তার রাসূলের পক্ষ থেকে যুদ্ধের ঘোষণা রয়েছে।

পরকালের অবধারিত শাস্তি: অবৈধ উপার্জনকারীর জন্য রয়েছে কবরের নির্মম আজাব এবং কিয়ামতের দিন জাহান্নামের প্রজ্বলিত আগুন।

দান-খয়রাত মূল্যহীন হওয়া: হারাম পথে কোটি টাকা আয় করে সেখান থেকে কিছু সদকা করলেও তা আল্লাহর দরবারে গৃহীত হয় না। কারণ আল্লাহ পবিত্র, আর তিনি পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছুই গ্রহণ করেন না।