হজ বা উমরাহ শেষে অনেক ভ্রমণকারী মক্কা থেকে মদিনা শরিফে পৌঁছান। পথটি উত্তর দিকে, প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দীর্ঘ, সড়ক ও হাইওয়ে দিয়ে যেতে হয়, এবং পথের মাঝে মরুভূমি ও পাহাড় দেখা যায়। এই যাত্রা শুধু দৈহিক নয়, আত্মিকও; যাত্রার সময় নেক দোয়া ও তাসবিহ পাঠ করলে সওয়াব বৃদ্ধি পায়।
মদিনা পৌঁছে প্রথমে হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর প্রতিষ্ঠিত মসজিদে কোবাতে দু’রাকাত নামাজ আদায় করলে এক ওমরাহর সওয়াব পাওয়া যায়।
এরপর মসজিদে নববিতে নিয়মিত ৮ দিন, ৪০ ওয়াক্ত নামাজ জামাতে আদায় করলে পাপ মাফ হয় এবং জান্নাতে প্রবেশ নিশ্চিত হয়। রাসুল (সা.) বলেছেন, যারা মসজিদে নববিতে ৪০ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করেন এবং কোনো নামাজ কাজা করেন না, তারা মোনাফেকি ও দোজখের আজাব থেকে মুক্তি পান।
মসজিদে নববির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্থান হলো রওজা মোবারক বা নবীজি (সা.)–এর সমাধি। এখানে হজরত আবুবকর ও হজরত উমরের মাজারও অবস্থিত। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার রওজা জিয়ারত করবে, তার জন্য আমার শাফায়াত ওয়াজিব’।
রওজা ও মিম্বরের মধ্যবর্তী রিয়াজুল জান্নাত বা বেহেশতের বাগান, একমাত্র দুনিয়ায় জান্নাতের অংশ, সেখানে প্রবেশ করলে জান্নাতের সওয়াব অর্জিত হয়।
মক্কা শরিফের নামাজের সওয়াবও খুব বেশি; প্রতিটি রাকাতে এক লাখ রাকাতের সমতুল্য। তবে শুধুমাত্র সওয়াবের আশায় মদিনা যাওয়া নয়, বরং প্রিয় নবীজি (সা.)–এর জিয়ারতের উদ্দেশ্য ও আত্মিক শান্তির জন্য এখানে যাওয়া উচিত।
রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে মদিনায় মৃত্যুবরণ করতে পারবে, সে যেন তা করে; আমি তার জন্য শাফায়াত করব’। তাই মুজতাহিদ ও ফকিহরা জোর দিয়ে বলেছেন, রওজা জিয়ারত ওয়াজিব।
মক্কা থেকে মদিনার পথ দীর্ঘ হলেও, এই যাত্রা হলো আধ্যাত্মিক জীবনের এক মহান অভিজ্ঞতা, যেখানে প্রতিটি নামাজ, দোয়া ও নেক কাজ আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হয়।