ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-এ মুক্তি পেয়েছে ওপার বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীর নতুন নারীকেন্দ্রিক ওয়েব সিরিজ ‘কুইনস’। প্রতিহিংসা, পারিবারিক শত্রুতা আর নারী ক্ষমতায়নের এক টান টান গল্প নিয়ে সিরিজটি সাজিয়েছেন পরিচালক নির্ঝর মিত্র। মুক্তির পর থেকেই মিমি চক্রবর্তীর অনবদ্য অভিনয় এবং সিরিজের রোমাঞ্চকর প্লট দর্শকদের মাঝে বেশ সাড়া ফেলেছে।
গল্পের প্রেক্ষাপট পাহাড়ঘেরা এক মনোরম পরিবেশের ‘সাহেববাড়ি’। কিন্তু এই সুন্দর পরিবেশের আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক অন্ধকার রহস্য। যেখানে একটি অভিজাত বাড়ির ছোট ছেলের বউভাতের জমকালো উৎসবের রাতেই ঘটে যায় এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। হঠাৎ গুলির শব্দে চারদিকের আলো আর আনন্দ নিমেষেই বদলে যায় শোকে। এক রাতেই খুন হন সেই পরিবারের চার পুরুষ সদস্য। হাতের মেহেন্দির রঙ ফিকে হওয়ার আগেই চোখের সামনে স্বামীকে হারায় সন্তানসম্ভবা মীরা। এই মীরা চরিত্রেই নিজেকে নিংড়ে দিয়েছেন মিমি চক্রবর্তী, যার কিছু এক্সপ্রেশন এক কথায় অনবদ্য। এক রাতের ঝড়ে স্বামীহারা হওয়া চার অসহায় নারী এরপর আর অবলা থাকেনি, বরং একে অপরের পরিপূরক হয়ে প্রতিশোধের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়।
পরিচালক নির্ঝর মিত্র বুঝিয়ে দিয়েছেন যে বদলা সবসময় গান্ধীগিরিতে নয়, বরং ইটের বদলে পাটকেল দিয়েই হওয়া উচিত। শত্রুপক্ষের চালেই শত্রুকে বিনাশ করে বুদ্ধিদীপ্তভাবে বাজিমাত করে মীরা। সিরিজে অন্যান্য চরিত্রেও অভিনয়শিল্পীরা দারুণ পারফর্ম করেছেন। নীলমণি মিত্রের খলচরিত্রে জয়দীপ মুখোপাধ্যায় এবং নেগেটিভ চরিত্রে অর্ণ মুখোপাধ্যায় তাদের অভিনয় গুণে চরিত্রগুলোকে ফুটিয়ে তুলেছেন। এছাড়া দুর্বার শর্মার ‘ভোলা’ চরিত্র, স্বল্প পরিসরে ‘লেপচা’র ভূমিকায় অরিজিৎ দত্ত এবং মূক চরিত্রে পায়েল দে নজর কেড়েছেন। দীর্ঘদিন পর বৈশাখী মার্জিতকেও এই সিরিজে বেশ মার্জিত রূপে দেখা গেছে।
নারী পাচার, রাজনীতির চোরাস্রোত আর খুনের মতো একাধিক অপরাধমূলক ঘটনা নিয়ে তৈরি ‘কুইনস’ সিরিজের গল্পের বাঁধুনি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত দর্শকদের ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। পরিচালক এবং প্রধান অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী দুজনেরই শেকড় উত্তরবঙ্গে হওয়ায় পাহাড়ের চেনা পরিবেশে তারা যেন নিজেদের সেরাটা দিয়েছেন। প্রথম সিজনের টান টান উত্তেজনার শেষেই বুদ্ধিদীপ্তভাবে সিরিজের দ্বিতীয় পর্বের আগাম ঝলক দিয়ে রেখেছেন পরিচালক, যা দর্শকদের আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।