Sunday 07 Jun 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বিতর্কিত দৃশ্য কাটার ঘোষণা পরিচালকের, ‘পেড্ডি’ নিয়ে মুখ খুললেন জাহ্নবী

এন্টারটেইনমেন্ট ডেস্ক
৭ জুন ২০২৬ ১৫:৩২

সম্প্রতি সিনেমা হলে মুক্তি পেয়েছে দক্ষিণি সিনেমার মেগাস্টার রাম চরণ এবং বলিউড অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘পেড্ডি’। পর্দায় এই নতুন জুটিকে দেখার জন্য দর্শক ও ভক্তদের আগ্রহের কমতি ছিল না। কিন্তু মুক্তির পরপরই সিনেমাটি বক্স অফিসের আলোচনার চেয়েও বেশি জড়িয়ে পড়েছে তীব্র বিতর্কে। ছবির কিছু নির্দিষ্ট দৃশ্যে জাহ্নবী কাপুরকে যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন চলছে তুমুল সমালোচনা ও তর্ক-বিতর্ক। দর্শক ও সমালোচকদের একটি বড় অংশের অভিযোগ, ছবিতে জাহ্নবী কাপুরকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে এবং অতিরঞ্জিত মাত্রায় আবেদনময়ী হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অনেক দৃশ্যে ক্যামেরার অ্যাঙ্গেল এবং ফোকাস এমন ছিল যা কেবল অস্বস্তিকরই নয়, বরং গল্প বা চরিত্রের প্রয়োজনের বাইরে গিয়ে নারীকে কেবলই এক প্রকার ‘পণ্য’ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেছে। সচেতন দর্শকেরা মনে করছেন, এই দৃশ্যগুলো সিনেমার মূল কাহিনিচিত্রের কোনো উপকারে তো আসেইনি, উল্টো গল্পের স্বাভাবিক গতি ও ধারাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে নারীদের প্রতি এই ধরনের প্রাচীন ও স্থূল দৃষ্টিভঙ্গির প্রদর্শনী বর্তমান সময়ের সিনেমার রুচির সঙ্গে একেবারেই খাপ খায় না বলে দাবি করছেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা।

বিজ্ঞাপন

এই তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড়ের মাঝেই বিষয়টি নিয়ে পরোক্ষভাবে মুখ খুলেছেন স্বয়ং অভিনেত্রী জাহ্নবী কাপুর। সাম্প্রতিক এক পডকাস্টে অংশ নিয়ে নিজের ক্যারিয়ার, গ্ল্যামার এবং কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করার পাশাপাশি নারীদের পর্দায় ও ক্যামেরায় উপস্থাপনের ধরন নিয়ে নিজের স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

জাহ্নবী বলেন , পর্দায় বা বাস্তব জীবনে নারীদের সম্মতি ছাড়া অশালীনভাবে উপস্থাপন করা কিংবা ক্যামেরার লেন্সের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু অঙ্গ বা ভঙ্গির ওপর অতিরিক্তভাবে ফোকাস করা একটি বড় ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক সমস্যা। এই বিষয়টি আমাকে দীর্ঘদিন ধরেই ভাবিয়ে তুলেছে এবং এর প্রতিকার আমি আগেও একাধিকবার আলোকচিত্রীদের সাথে সরাসরি কথা বলেছি। বিশেষ করে পাপারাজ্জি বা বিনোদন সাংবাদিকদের ছবি তোলার অনাকাঙ্ক্ষিত ধরন নিয়ে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করে তাদের আরও সংবেদনশীল হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। যদিও এই নির্দিষ্ট সিনেমার চলমান বিতর্ক নিয়ে এখন পর্যন্ত জাহ্নবী কাপুরের পক্ষ থেকে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক বিবৃতি আসেনি, তবে পডকাস্টে তার এই মন্তব্যকে অনেকেই বর্তমান পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে দেখছেন।

চতুর্মুখী সমালোচনা এবং দর্শক মহলের চরম ক্ষোভের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত নতি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন সিনেমাটির নির্মাতা। উদ্ভূত বিতর্কের পরিপ্রেক্ষিতে এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন ছবির পরিচালক। বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, সিনেমার কোনো দৃশ্য বা চরিত্রের মাধ্যমে কাউকে ব্যক্তিগতভাবে অস্বস্তিতে ফেলা, আঘাত করা কিংবা সামগ্রিকভাবে নারী জাতিকে অসম্মান করা তাঁর বা তাঁর টিমের বিন্দুমাত্র উদ্দেশ্য ছিল না। একটি বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রের মূল লক্ষ্য সবসময়ই দর্শককে সুস্থ বিনোদন দেওয়া এবং নিখাদ গল্পের মাধ্যমে একটি সুন্দর সংযোগ তৈরি করা।

তিনি আরও বলেন যে, নারীদের অবমাননা করার কোনো উদ্দেশ্য তাদের কখনোই ছিল না এবং দর্শকদের অনুভূতির প্রতি তারা শ্রদ্ধাশীল। তাই সাধারণ দর্শক ও সমালোচকদের কাছ থেকে আসা নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া ও আপত্তির বিষয়টি আমলে নিয়ে ছবির বিতর্কিত দৃশ্যগুলো পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরিচালক জানিয়েছেন, দ্রুতই সিনেমাটি থেকে ঐ অস্বস্তিকর দৃশ্যগুলো কেটে বাদ দেওয়া বা পরিবর্তন করার চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে রূপালি পর্দায় গল্পের মূল সৌন্দর্য ও শালীনতা বজায় থাকে।