বড় আয়োজন, চমক আর তারকাখচিত উপস্থিতি। সবকিছু মিলিয়ে আলোচনায় ছিল ‘কেডি: দ্য ডেভিল’। কিন্তু সিনেমার একটি গান মুক্তির পরই তা ঘিরে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। ‘সরকে চুনর তেরি সরকে’ শিরোনামের সেই গানে পারফর্ম করেন নোরা ফাতেহি ও সঞ্জয় দত্ত। আর সেখান থেকেই সমালোচনার ঝড় ওঠে।
গানটি প্রকাশের পর অনেকেই এর ভাষা ও উপস্থাপনাকে ‘অশ্লীল’ ও ‘যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ’ বলে আখ্যা দেন। সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, এমনকি কেউ কেউ গানটি নিষিদ্ধের দাবিও তোলেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছে যে শেষ পর্যন্ত গানটি সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয় নির্মাতাদের।
কিন্তু এতেও শেষ নয়, সিনেমার ওই ‘যৌন ইঙ্গিতমূলক’ আইটেম নম্বর নিয়ে নিন্দার ঝড় উঠেছিল সংসদে। সেখানেই তথ্য-সম্প্রচার মন্ত্রী গানটিকে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষণা করেন। আপত্তি উটেছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনেও। এমনকী নোটিস পাঠিয়ে তলব করা হয়েছে নারী কমিশনের তরফেও। এবার আরও বিপাকে নোরা! ফতোয়া জারি হল তার বিরুদ্ধে।
‘মুসলিম পার্সোনাল দরুল ইফতা’-এর প্রধান মুফতি মৌলানা ইব্রাহিম হুসেন নোরা ফতেহির বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে এক বিবৃতি দিয়েছেন। ভারতের উত্তরপ্রদেশের মৌলানা চৌধুরী ইব্রাহিম হোসেনের মন্তব্য, ‘কন্নড় সিনেমার ওই বিতর্কিত গানটিতে অত্যন্ত কুরুচিকর ও অশ্লীল বিষয়বস্তু রয়েছে। আর এই ধরনের বিষয়বস্তু প্রদর্শন বা প্রচার ‘হারাম’ এবং ‘গুনাহ-এ-কবিরা’ (গুরুতর অপরাধ)। তাই ধর্মীয় নীতি বিসর্জন দিয়ে এধরণের অশ্লীলতাকে প্রশ্রয় দেওয়া আখেড়ে সমাজের জন্যই ক্ষতিকর। বিশেষ করে জনমানসে এর কুপ্রভাব পড়ে।’
এদিকে বিতর্কে পড়ে নোরা জানিয়েছিলেন, ‘আমি এই গানটির শুটিং করেছিলাম তিন বছর আগে কন্নড় নামক একটি ভাষায়। যে সিনেইন্ডাস্ট্রিকে মূলত ‘স্যান্ডালউড’ বলা হয়ে থাকে। আমি কন্নড় ভাষা জানি না। নাচের কোরিওগ্রাফের সময় আমাকে অনুবাদ করে যা শোনানো হয়েছিল, সেখানে গানের কথায় কোনও অশ্লীলতা ছিল না। ওরা যা বুঝিয়েছিলেন, আমি সেটাই অনুসরণ করেছিলাম মাত্র। তবে এটাও ঠিক যে, আমি যেহেতু কন্নড় ভাষা বুঝি না, তাই ওদের উপরই ভরসা রাখতে হয়েছিল আমাকে। কিন্তু গানটির হিন্দি সংস্করণে এমন সব লিরিকস বা কথা ব্যবহার করা হয়েছে, যা অত্যন্ত অনুপযুক্ত। আর এই পুরো বিষয়টি সম্পর্কে আমার বিন্দুমাত্র ধারণাও ছিল না। গানটি শোনার পর আমি পরিচালককেও জানিয়েছিলাম যে এটা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে। আমি এই প্রজেক্ট থেকে নিজেকে পুরোপুরি গুটিয়ে নিলাম। আপনারাও দেখেছেন এই গানের কোনও প্রচার আমি করিনি। কারণ আমার ভাবমূর্তিতে এর প্রভাব পড়ছে।’
নোরা এও জানান যে, প্রথমত সঞ্জয় দত্তের মতো তারকার সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ারের সুযোগ এবং দ্বিতীয়ত বিগবাজেট সিনেমার আইটেম নম্বর বলেই তিনি এই গানে পারফর্ম করতে রাজি হয়েছিলেন। তিনি জানান, ‘ভাগ্যিস বিতর্ক হয়েছে, তাই গানটি সরানো হল। নইলে আমি তো নেপোকিড নই বা আমার ক্ষমতার জোরও নেই। আমাদের মতামতও গুরুত্ব পায় না। তাই বিতর্কের জোরে গানটি নিষিদ্ধ হওয়ায় ভালোই হয়েছে একদিন থেকে।’ তবে সাফাই গেয়েও রেহাই মিলল না অভিনেত্রীর!