গাজীপুর থেকে: উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটগ্রহণ। সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের ঢল নেমেছে। পুরুষ ভোটারদের পাশাপাশি নারী ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে ধৈর্য নিয়ে ভোট দিচ্ছেন তারা। ভোটের হাওয়া লেগেছে ৯০ বছরের ফাতেমার গায়েও। বয়সের ভারে ন্যুব্জ (নুয়ে পড়া), ঠিকমতো হাঁটতে পারেন না তবুও ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হন তিনি। অন্যের সাহায্য নিয়ে ভোট কেন্দ্রে আসতে দেখা যায় তাকে।
বৃহস্পতিবার (২৫ মে) সকালে গাজীপুরের জয়দেপুর এলাকার মদিনাতুল উলুম মাদরাসা কেন্দ্রে ভোট দেন তিনি।
মদিনাতুল উলুম মাদরাসা কেন্দ্রের তিন তলা ভবনের সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠতে খুবই কষ্ট হচ্ছিল তার। সঙ্গে থাকা এক নারী তাকে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

নগরীর বিলাসপুরের বাসিন্দা ফাতেমার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, জীবনের শেষ ভোট দিতে এসেছি। শেষ বয়সে একবার ভোট দেব। মরেই তো যাব, তাই শেষ ভোট দিয়ে যাই।
তিনি আরও বলেন, আর বাঁচবো কিনা তার তো ঠিক নেই। ভোটটা দিয়ে গেলাম। আশাকরি মায়া নিয়ে যাকে ভোট দিতে এসেছি, সেই জিতবে।
এদিকে, মদিনাতুল উলুম মাদরাসা ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারি প্রিসাইডিং অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কেন্দ্রটিতে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভোট পড়েছে।
কেন্দ্রটির লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রিপন সারাবাংলাকে বলেন, আধা ঘণ্টা আগে এসেছি। ভোট সুষ্ঠু হচ্ছে আর পরিবেশ খুবই উৎসব মুখর।
২৬ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা ফিরোজ মিয়া বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাইনি। খুবই সুন্দরভাবে ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গাজীপুর সিটি করপোরেশন (গাসিক) নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। বৃহস্পতিবার (২৫ মে) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়। যা বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে ( ইভিএম) ভোটগ্রহণ হচ্ছে।
বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল অংশ না নিলেও আজ সবার দৃষ্টি থাকবে রাজধানীর লাগোয়া এই মহানগরে। দলীয় প্রতীকের এ নির্বাচনে মেয়র পদে আট প্রার্থী থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট আজমত উল্লা খান ও স্বতন্ত্র প্রার্থী জায়েদা খাতুন (সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলমের মা)।
সিটিতে ৪৮০ কেন্দ্রের ৪ হাজার ৪৩৫টিতে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। এসব ক্যামেরার মাধ্যমে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে বসে বড়পর্দায় ভোটের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।