ঢাকা: সারাদেশে প্রথম ধাপে ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ২২ জন চেয়ারম্যান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এদের সবাই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী। সোমবার (২১ জুন) দেশের ১৩ জেলার ওই ইউপিগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ২৮ জন চেয়ারম্যানের মধ্যে ২৬ জনই বরিশাল বিভাগের ৫টি জেলা থেকে এবং বাকি দুইজন গাজীপুর জেলা থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধু বরিশাল জেলার ৫টি উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন থেকে থেকে ১৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়ন, উজিরপুর উপজেলার শোলক ইউনিয়ন, মুলাদী উপজেলার মুলাদী ইউনিয়ন, গৌরনদী উপজেলার বাটাজোড়, খানজাপুর, বাথি, চাঁদশী, মাহিলারা, নলচিড়া ইউনিয়ন এবং বানারীপাড়া উপজেলার বিশারকান্দি, ইলুহার, সালিয়াবাকপুর, বানরীপাড়া, উদয়কাঠি ইউনিয়ন থেকে মোট ১৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগের অপর জেলা ভোলার বোরহানউদ্দিন ও চরফ্যাশন উপজেলা থেকে ৬ জন চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়ন এবং চরফ্যাশন উপজেলার চরমাদ্রাজ, চরকলমী, হাজারীগঞ্জ, এওয়াজপুর ও জাহানপুর ইউনিয়নে নির্বাচিত হয়েছেন তারা।
এছাড়া পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কালিশুরী ও কালাইয়া ইউনিয়ন, পিরোজপুর জেলা ভান্ডারিয়া উপজেলার তেলিখালি ইউনিয়ন, ঝালকাঠি জেলার সদর উপজেলা কেওড়া ইউনিয়ন, নলছিটি উপজেলার নাচনমহল ইউনিয়ন এবং রাজাপুর উপজেলার গালুয়া্ ইউনিয়ন থেকে মোট ৬ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
বরিশাল বিভাগের বাইরে গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার তুমুলিয়া ও মুক্তারপুর ইউনিয়ন থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এত প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার ব্যাপারে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার সারাবাংলাকে বলেন, ‘কোন জায়গা থেকে কে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় কিংবা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছেন— এতে কারো কিছু আসে যায় না। কারণ এই নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, এই নির্বাচন নিয়ে জনগণেরও কোনো আগ্রহ নেই। এক কথায় বলবো, এই নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছে’।
প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনের ফলাফল
উল্লেখ্য যে, প্রথম ধাপের ২০৪টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত জয়ী ১৪৮জন প্রার্থীর মধ্যে ১২০ জন সরাসরি ভোটে এবং বাকী ২৮জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়াও ৪৯টি ইউপিতে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। তবে স্বতন্ত্রদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। এর বাইরে তিনটি বিরোধী রাজনৈতিক দল থেকে নির্বাচিত ৭ জনের মধ্যে জাতীয় পার্টি (জেপি) থেকে বাইসাইকেল প্রতীক নিয়ে ৩ জন, জাতীয় পার্টি থেকে লাঙল প্রতীক নিয়ে ৩ জন এবং হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে ১ জন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। এ নির্বাচনে দলগতভাবে বিএনপি অংশ নেয়নি।
প্রথম ধাপে ১৩ জেলার ৪১টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে নির্বাচন হয়। এগুলো হলো— পটুয়াখালি জেলার দুমকি, বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা; রংপুর জেলার পীরগাছা; বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া; বরিশাল জেলার বরিশাল সদর, বাকেরগঞ্জ, উজিরপুর, মুলাদী, মেহেদীগঞ্জ, বাবুগঞ্জ, গৌনদী, হিজলা, বানারীপাড়া; বরগুনা জেলার বরগুনা সদর, আমতলী, বেতাগী, বামনা, পাথরঘাটা; পিরোজপুর জেলার পিরোজপুর সদর, ইন্দুরকানী, ভান্ডারিয়া, নেছারাবাদ, কাউখালি, নাজিরপুর উপজেলা; ঝালকাঠি জেলার ঝালকাঠি সদর উপজেলা, নলছিটি, রাজাপুর ও কাঠালিয়া উপজেলা। ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন, তজমুদ্দিন, মনপুরা, চরফ্যাশন; নরসিংদী জেলার পলাশপুর; গাজীপুর জেলার কালিগঞ্জ; মাদারীপুর জেলার শিবচর; সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক; লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি ও কমলনগর উপজেলা।
ইসি সূত্র জানায়, প্রথম ধাপের ২০৪টি ইউপি নির্বাচনে ৮৫৯ জন প্রার্থী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এসব ইউনিয়নে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদে ২ হাজার ১৫৪ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৬ হাজার ৯৬০ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নির্বাচনে অংশ নেন। প্রথম ধাপের ইউপি নির্বাচনে ১ হাজার ৮৩৬টি ভোটকেন্দ্রের ১০ হাজার ২৬০টি ভোট কক্ষে ভোট গ্রহণ হয়। সোমবার (২১ জুন) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলে।