যশোর: মাগুরা মেডিকেল কলেজের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুনির হোসেন। ঝিনাইদহে বাড়ি এই হতদরিদ্র পরিবারের এই সন্তান নিজের মেধা ও যোগ্যতায় মেডিকেলে পড়াশোনার সুযোগ পেলেও খরচ নিয়ে পড়েন বিপাকে। তখনই এই শিক্ষার্থীর পাশে এসে দাঁড়ায় আমেরিকার সাহায্য সংস্থা ‘ইকো’। প্রতিবছর এ শিক্ষার্থীকে এককালীন মেধাবৃত্তি দিয়ে আসছে সংস্থাটি। তারই ধারাবাহিকতায় মেধাবী এ শিক্ষার্থী পেয়েছেন চলতি বছরের এককালীন নগদ অর্থের চেক।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় যশোর সদর উপজেলা পরিষদের মিলনায়তনে এই চেক বিতরণ করা হয়।
চেক পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মুনির হোসেন বলেন, ‘যখন মেডিকেলে চান্স পাই; তখন একদিকে যখন পরিবারে আনন্দ বয়ে আসে অন্যদিকে দুশ্চিন্তা নেমে আসে। এমন পরিস্থিতিতে পাশে দাঁড়ায় ইকো আমান। এখন আমারও দায়িত্ব বেড়েছে। জীবনে প্রতিষ্ঠিত হলে আমিও এমন অসহায় শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াবো।’
এই শিক্ষার্থীর মতো এদিন ৫৫ মেধাবি শিক্ষার্থীকে মোট সাত লাখ ৬৬ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়। মেডিকেল ১৫ হাজার, প্রকৌশল ও নার্সিং ১২ হাজার এবং পাবলিক ও পলিটেকনিকের শিক্ষার্থীরা পেয়েছেন ১০ হাজার টাকা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত মেধাবি এসব শিক্ষার্থীদের হাতে চেক তুলে দেন।
এ সময় তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার গঠন করার পর খালেদা জিয়া মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছিলেন। উপবৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। মেয়েরা এ শিক্ষাব্যবস্থার মধ্য দিয়ে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের মেয়েদের অগ্রগতি হয়েছে, নারী শিক্ষার হার বেড়েছে। আগামিতে মেয়েদের স্মাতক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে যাচ্ছে।’
ইকো’র কার্যক্রম প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইকো দীর্ঘদিন ধরে সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীদের নিয়ে কাজ করে। তারা হতদরিদ্র গরিবদের স্বাস্থ্য সেবা, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষে বিভিন্ন ট্রেনিং, দরিদ্র মেধাবীদের শিক্ষা বৃত্তি ও খাবার বিতরণসহ নানা সামাজিক কাজ করে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে তাদের কার্যক্রম দেশে প্রশংসিত হচ্ছে।’
তিনি বলেন, সমাজে কেউ আলাদা নয়। যে যার জায়গা থেকে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করলে সমাজে আর বৈষম্য থাকবে না। একটা সময় এই দেশ সমৃদ্ধ শক্তিশালী জাতিতে পরিণত হবে।
সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহরিয়ার হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, যশোর মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক আলাউদ্দিন আল মামুন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা আরিফ নুর, যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, আমানের সেক্রেটারি জেনারেল হুমায়ন কবির। স্বাগত বক্তব্য দেন ইকোর প্রজেক্ট অফিসার আবদুল কাদের।
ইকোর প্রজেক্ট অফিসার আবদুল কাদের জানান, ইকোর অর্থায়নে সমাজে পিছিয়ে পড়া হতদরিদ্রদের সচেতন করতে এবং আর্থসামাজিকভাবে সচ্ছল করতে সংগঠনটি কাজ করছে। পাশাপাশি সমাজের হতদরিদ্র মানুষকে প্রতিষ্ঠা করা এবং তাদের কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে যশোরের চাঁচড়াস্থ ইকো ট্রেনিং সেন্টার কাজ করছে।