ঢাকা: রাজধানীতে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে এবং ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া ও জিকা ভাইরাসের বিস্তার রোধে বিশেষ প্রচারাভিযান শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।
শনিবার (১১ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর মানিকদীতে ‘অপারেশন ক্লিন হোমস, হেলদি লাইভস’ শিরোনামে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
মানিকদীর ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড আদর্শ বিদ্যানিকেতনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মশা ও ময়লা নিয়ন্ত্রণে আমরা যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হই এবং নিজ উদ্যোগে কাজ করি, তবেই এর সুফল পাওয়া সম্ভব। মশার উৎপত্তিস্থল নির্মূল করতে পারলেই কেবল এই প্রাদুর্ভাব কমিয়ে আনা যাবে।’
তিনি আরও জানান, এখন থেকে প্রতি শনিবার এই বিশেষ অভিযান চলবে। মশার উৎস সন্ধানে ডিএনসিসির কর্মীরা বাড়ির ভেতরে গিয়ে বেজমেন্ট পর্যন্ত পরীক্ষা করবেন। বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই মশার উপদ্রব কমিয়ে নগরবাসীকে স্বস্তি দিতে চায় সিটি কর্পোরেশন।
প্রশাসক বলেন, মশক নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষণা অনুযায়ী প্রতি শনিবার এলাকাভিত্তিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও মশক নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য কার্যক্রম গ্রহণ করেছে ডিএনসিসি।
এ সময় প্রশাসক উচ্ছেদকৃত ফুটপাত পুনরায় দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। যারা ফুটপাতে পুনরায় দোকান বসানোর চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, একদিকে উদ্ধার করা হচ্ছে ফুটপাত, অন্যদিকে ৭২ বা ৪৮ ঘণ্টা পরে তারা আবারও বসছে। তাই আমাদের দায়িত্ব উচ্ছেদের পরে ওই জায়গায় মনিটরিং করা। যাতে তারা পুনরায় আবার বসতে না পারে। অনেকেই বলে, এই বিষয়ে বিএনপির অঙ্গসংগঠনের সবাই জড়িত, কিন্তু এই বিষয়ে আমি বলবো আমার দলের কেউ জড়িত নয়।
প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, অতীতের ফ্যাসিস্টদের আমলে যারা করতো একই কায়দায় তারা করে, এখন নতুন করে আবার অন্য বেশে, ভদ্র বেশে টুপি পরে আছে তারাও জড়িত, কিন্তু নামটা পরে আমাদের। কারণ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে এখন বিএনপি। তাই আমাদের নামটাই আসে। এজন্য আমাদের সজাগ থাকতে হবে এই বিষয়ে।
ব্র্যাক-এর সহযোগিতায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব আব্দুর রহমান সানী, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. আব্দু সাত্তার পাটোয়ারী।, ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, এ ছাড়াও ডিএনসিসির মশক নিধন কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভা শেষে প্রশাসক মানিকদী ও এর আশেপাশের এলাকায় জনসাধারণের মাঝে সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করেন। এ সময় তিনি সবাইকে নিজ আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার অনুরোধ জানান এবং জমা জল বা ময়লা আবর্জনা থেকে মশা যেন বংশবিস্তার করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখার পরামর্শ দেন। ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ মনে করছে, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়লে মশাবাহিত রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।