Saturday 11 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইসলামাবাদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
১১ এপ্রিল ২০২৬ ১২:৫৮ | আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:৩০

ইরানের সঙ্গে পূর্বঘোষিত শান্তি আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তার প্রতিনিধি দলসহ পাকিস্তানে পৌঁছেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।

ইসলামাবাদের নূর খান এয়ারবেসে পৌঁছালে ভ্যান্সকে স্বাগত জানান পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এবং সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শনিবার (১১ এপ্রিল) ভোরে ইরানের প্রতিনিধি দলও ইসলামাবাদে পৌঁছায়।

দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির মধ্যে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন প্রতিনিধি দলে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ। এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ, স্টেট ডিপার্টমেন্ট ও প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারাও উপস্থিত রয়েছেন।

ইরানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ। তার সঙ্গে রয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি, সুপ্রিম ন্যাশনাল ডিফেন্স কাউন্সিলের সচিব আলী আকবর আহমাদিয়ান এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি।

১৯৭৯ সালের পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে এটিই প্রথম সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক।

তবে আলোচনার আগে বেশ কিছু শর্ত সামনে এনেছে ইরান। গালিবাফ জানান, লেবাননে যুদ্ধবিরতি এবং বিদেশে জব্দ থাকা প্রায় ৭০০ কোটি ডলারের ইরানি সম্পদ মুক্ত না হলে তেহরান আলোচনায় বসবে না।

ইরানের এক কর্মকর্তা জানান, বৈরুত ও দাহিয়েহতে হামলা বন্ধ রাখাকে ‘লাল দাগ’ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা লঙ্ঘিত হলে আলোচনা ভেঙে যেতে পারে।

ওয়াশিংটন ছাড়ার আগে ভ্যান্স আলোচনাকে সম্ভাব্য ‘ইতিবাচক’ বলে উল্লেখ করেন, তবে সতর্ক করে বলেন যুক্তরাষ্ট্র সময়ক্ষেপণের কৌশল মেনে নেবে না। অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে সামরিক পদক্ষেপ আবার শুরু হতে পারে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, এই আলোচনা সফল করতে তার দেশ সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। তিনি এটিকে সংলাপের মাধ্যমে বিরোধপূর্ণ বিষয়গুলো সমাধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করেন, যদিও কাজটি জটিল বলে স্বীকার করেন।

আলোচনার এজেন্ডায় রয়েছে ইরানের ১০ দফা প্রস্তাব, যা যুক্তরাষ্ট্র কাঠামো হিসেবে মেনে নিয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালীর নৌ চলাচল এবং আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে এখনো বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর