ওয়াশিংটনে আগামী মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বৈঠকে বসতে সম্মত হয়েছে লেবানন ও ইসরায়েলে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় এই বৈঠকে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং সরাসরি শান্তি আলোচনা শুরুর সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে লেবানন।
লেবানন সরকারের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কার্যকর যুদ্ধবিরতি ছাড়া কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। তবে ওয়াশিংটনে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত নিশ্চিত করেছেন যে লেবাননের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক শান্তি আলোচনা শুরু হবে, যদিও হিজবুল্লাহকে নিয়ে কোনো যুদ্ধবিরতি আলোচনায় বসতে রাজি নয় ইসরায়েল।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লেবানন সরকারের ‘বারবার অনুরোধের’ পরই সরাসরি আলোচনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এদিকে লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বুধবারের (৮ এপ্রিল) ব্যাপক হামলায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ জনে এবং আহত হয়েছেন আরও ১ হাজার ২২৩ জন। ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলমান থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, দেশজুড়ে চালানো হামলায় অন্তত ১৮০ জন হিজবুল্লাহর সদস্য নিহত হয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বৈরুত সময় রাত ৯টায় লেবানন ও ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূতরা বৈরুতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রথমবার ফোনে কথা বলেন। সেখানেই মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টে বৈঠকের বিষয়ে সম্মতি হয়।
এদিকে, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা সতর্ক করেছে, লেবাননে মানবিক সংকট দ্রুত তীব্র হচ্ছে। এরই মধ্যে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।