Friday 10 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মৌলভীবাজারে মণিপুরী সম্প্রদায়ের ‘লাই হারাওবা’ উৎসব উদযাপন

ডিস্ট্রিক্ট করসপন্ডেন্ট
১০ এপ্রিল ২০২৬ ১২:০৫

সিলেট: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে শুরু হয়েছে বাংলাদেশে বিলুপ্তপ্রায় মণিপুরি মৈতৈ সম্প্রদায়ের প্রাচীন ও ধর্মীয় সাংস্কৃতিক উৎসব ‘লাই হারাওবা’। এই উৎসবকে ঘিরে পুরো আদমপুর এলাকায় বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার আদমপুরের তেতইগাঁও গ্রামে অবস্থিত মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে তিন দিনব্যাপী এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়।

উৎসব আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, মণিপুরি নৃত্যের আদিরূপ বলে বিবেচনা করা হয় ‘লাই হারাওবা জগোই’কে। ‘লাই’ শব্দের অর্থ দেবতা, ‘হারাওবা’ অর্থ আনন্দ, আর ‘জগোই’ হচ্ছে নৃত্য। এই অর্থে ‘লাই হারাওবা জগোই’ হচ্ছে দেবতাদের আনন্দময় নৃত্য বা দেবতাদের আনন্দ বিধানের জন্য নৃত্য পরিবেশনা।

বিজ্ঞাপন

উৎসবের সূচনালগ্নে অংশগ্রহণকারী ভক্ত ও কলাকুশলীরা ঐতিহ্যবাহী শোভাযাত্রায় অংশ নেন। পরে কালচারাল কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে বাঁশি, ঢাক-ঢোল ও পেনার সুরে।

নিজস্ব ভাষায় সঙ্গীত পরিবেশন এবং মন্ত্রপাঠ উৎসবকে এনে দেয় এক অনন্য আধ্যাত্মিক মাত্রা।

সন্ধ্যায় নারী-পুরুষ ও কিশোর-কিশোরীদের অংশগ্রহণে বাদ্যযন্ত্রের তালে পরিবেশিত নৃত্য ও সঙ্গীত দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করে।

দেশ-বিদেশের খ্যাতিমান শিল্পী, গবেষক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের অংশগ্রহণে উৎসবটি পেয়েছে আন্তর্জাতিক মাত্রা। বিশেষ করে ভারতের মণিপুর থেকে আগত শিল্পী ও গবেষকদের উপস্থিতি আয়োজনকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

লাই হারাওবা স্টিয়ারিং কমিটি, বাংলাদেশের সদস্যসচিব ওইমান লানথই এবং আহ্বায়ক ইবুংহাল সিনহা (শ্যামল) জানান, ‘লাই হারাওবা’ মণিপুরি জনগোষ্ঠীর প্রাচীনতম ও ধর্মীয়
গুরুত্বপূর্ণ উৎসবগুলোর একটি। এর আক্ষরিক অর্থ ‘দেবতাদের আনন্দ উৎসব’। সৃষ্টি, বিশ্বতত্ত্ব, দিব্য সত্তা এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির গভীর তাৎপর্য উৎসবের প্রতিটি আচার-অনুষ্ঠানে প্রতিফলিত হয়।

ঐতিহ্যবাহী মন্ত্রপাঠ (লাইপৌ), সঙ্গীত এবং ‘মাইবী জাগোই’-সহ বিভিন্ন নৃত্যশৈলীর মাধ্যমে মূলত সনামহী ধর্মাবলম্বীরা দেবতাদের আরাধনা ও সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে এই উৎসব উদযাপন করে থাকেন।

আয়োজকদের মতে, এটি কেবল একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; বরং মণিপুরি সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক পরিচয়ের প্রাণকেন্দ্র, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ধারাবাহিকভাবে সংরক্ষিত হয়ে আসছে।

স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য রবি কিরণ সিনহা (রাজেশ) জানান, ইউনেস্কো বাংলাদেশ ও বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের অর্থায়নে এবারের উৎসব আয়োজন করা হয়েছে। এটি ‘বাংলাদেশের আটটি প্রশাসনিক বিভাগে সম্প্রদায়ভিত্তিক ঐতিহ্যবাহী উৎসব বাস্তবায়ন’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।

আয়োজকরা আরও জানান, চিরাচরিত রীতি-নীতি অনুসরণ করে উৎসবটি উদযাপিত হচ্ছে এবং আগামী শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে এর সমাপ্তি ঘটবে।

এ আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে মণিপুরি ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করছে।

সারাবাংলা/এনজে