ঢাকা: বেড়েই চলেছে বাণিজ্য ঘাটতি। চলতি অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৬ দশমিক ৯১ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ২৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত ব্যালান্স অব পেমেন্ট-এর (বিওপি) সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন বলছে, চলতি ২০২২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম আট মাসে (জুলাই-ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশের রফতানি আয় দাঁড়িয়েছে ২৯ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে এ সময়ে আমদানি ব্যয় হয়েছে ৪৬ দশমিক ১৭ বিলিয়ন ডলার।
সংশ্লিষ্টদর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে আমদানি বাড়ার পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে। রমজানকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন নিত্যপণ্যের আমদানি বেড়েছে। পাশাপাশি শিল্প খাতের কাঁচামাল আমদানিও কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় রফতানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত গতি পাচ্ছে না। বিশেষ করে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে মূল্যস্ফীতি এবং ভোক্তাদের ব্যয় কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে পোশাকসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের অর্ডারে। এর ফলে তৈরি পোশাকসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের সামগ্রিক রফতানি আয়ে এবং এর ফলে বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুয়ায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৩ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন ডলার। সেই হিসাবে এক মাসে ফেব্রুয়ারি) দেশের বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে ৩ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, দেশের মোট রফতানি আয়ের বড় অংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। ফলে এ খাতে অর্ডার কমে গেলে সামগ্রিক রফতানি আয়েও প্রভাব পড়ে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ-সংকট, গ্যাস সরবরাহে অনিশ্চয়তা এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন সক্ষমতায় চাপ সৃষ্টি করছে।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, মূলত আমদানি বাড়া ও রপ্তানি কমার কারণেই বাণিজ্য ঘাটতি বেড়েছে। তবে একই সময়ে দেশের চলতি হিসাবে ঘাটতি কিছুটা কমেছে। চলমান আন্তর্জাতিক সংঘাতের প্রভাব মার্চ মাস থেকে আরও স্পষ্ট হতে পারে। এতে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণে বাংলাদেশ ব্যাংককে সতর্কভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ৮ মাসে দেশের আর্থিক হিসাবে প্রায় ৪ দশমিক শূণ্য ৮ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্ত হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্ত ছিল ৪৩৫ মিলিয়ন ডলার। একই সময়ে সার্বিক লেনদেনের ভারসাম্যেও উন্নতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি সময়ে সামগ্রিক লেনদেনের ভারসাম্যে ৩ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার ঘাটতি ছিল।
একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ভারত ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলো বাণিজ্য চুক্তি, অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধার কারণে অনেক ক্ষেত্রে বেশি প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে। ফলে বাংলাদেশের রফতানি প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না। তিনি বলেন, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং উচ্চমূল্যের পণ্যের উৎপাদন বাড়ানো না গেলে ভবিষ্যতেও বাণিজ্য ঘাটতির চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।