Wednesday 08 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বায়ুদূষণে বিশ্বে দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:১৩

বায়ু দূষণ। ছবি: সারাবাংলা

ঢাকা: বিশ্বজুড়ে বায়ুদূষণের মাত্রা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষে উঠে এসেছে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই। আর এই তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা।

আজ সকাল ৮টা ৫৬ মিনিটে বায়ুর মান পর্যবেক্ষণকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (আইকিউএয়ার) রিয়েল-টাইম তথ্য বিশ্লেষণ করে এই ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে।

আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে থাইল্যান্ডের চিয়াং মাই শহরের বায়ু মানের সূচক বা স্কোর ছিল ১৮৪। আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী এই স্কোর ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে একই সময়ে রাজধানী ঢাকার দূষণ স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ১৫২। ঢাকার বাতাসের মানও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী বর্তমানে ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে অবস্থান করছে। তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভিয়েতনামের রাজধানী শহর হ্যানয়।

বায়ুর মান নির্ধারণে আইকিউএয়ার একটি নির্দিষ্ট স্কেল ব্যবহার করে থাকে। এই মানদণ্ড অনুযায়ী, কোনো শহরের বায়ুর মান ০ থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে তাকে ‘ভালো’ বলে গণ্য করা হয়। স্কোর ৫১ থেকে ১০০ হলে বাতাসের মান ‘মাঝারি’ বা ‘সহনীয়’ ধরা হয়। তবে স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে সেই বাতাস ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এই বাতাস অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকা ও চিয়াং মাইয়ের স্কোর ১৫০-এর উপরে থাকায় এই শহর দুটির বাতাস সাধারণ মানুষের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সূচকের নিয়ম অনুযায়ী, স্কোর ২০১ থেকে ৩০০-এর মধ্যে থাকলে তা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি হলে ওই এলাকার বাতাসকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বা বিপজ্জনক বলে ঘোষণা করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণাধীন প্রকল্পের ধুলোবালি, যানবাহনের ধোঁয়া এবং আশপাশের ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়ার কারণে ঢাকার বাতাসের মান বারবার উদ্বেগজনক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে। বিশেষ করে শিশুদের ফুসফুসের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হওয়ার পেছনে এই বিষাক্ত বাতাস প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করছে।

পরিবেশবিদদের মতে, বায়ুদূষণ রোধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে জনস্বাস্থ্যের এই বিপর্যয় মোকাবিলা করা ভবিষ্যতে আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

সারাবাংলা/এফএন/ইআ
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর