Tuesday 07 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

তিন সংস্থার যৌথ সংবাদ সম্মেলন
‎ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক হলে মানবিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হবে

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৬:৩৪ | আপডেট: ৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৯:১৪

জাতীয় প্রেসক্লাবে কোস্ট ফাউন্ডেশন, ইক্যুইটিবিডি ও বিডিসিএসও-প্রসেস-এর সংবাদ সম্মেলন – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: ক্ষুদ্রঋণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ২০২৫’ বাস্তবায়ন হলে দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক উন্নয়নভিত্তিক এই খাতের মানবিক চরিত্র ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে তিনটি বেসরকারি সংস্থা (কোস্ট ফাউন্ডেশন, ইক্যুইটিবিডি ও বিডিসিএসও-প্রসেস)।

সংস্থা তিনটি বলছে, ক্ষুদ্রঋণ শুধু একটি আর্থিক সেবা নয়; এটি গ্রামীণ অর্থনীতিভিত্তিক একটি সামাজিক উন্নয়ন কাঠামো। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংকিং সেবা যেখানে সীমিত, সেখানে ক্ষুদ্রঋণ দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

‎সংবাদ সম্মেলনে সংস্থা তিনটির প্রতিনিধিরা জানান, বর্তমানে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এবং এর ২২৩টির বেশি অংশীদার সংগঠনের মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি সদস্য ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ঋণগ্রহীতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ। একই সময়ে সদস্যদের সঞ্চয় হয়েছে ২৮ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা এবং ঋণ বিতরণ হয়েছে ১ লাখ ১৫ হাজার ১২৩ কোটি টাকা।

তারা বলেন, ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুধু ঋণ বিতরণে সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে প্রশিক্ষণ, নারীর ক্ষমতায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির মতো কার্যক্রমও যুক্ত। ফলে এটিকে প্রচলিত ব্যাংকিং কাঠামোর মধ্যে আনলে এর বহুমাত্রিক সামাজিক ভূমিকা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

‎তারা আরও জানান, বর্তমানে এই খাত মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি (এমআরএ), এনজিও বিষয়ক ব্যুরো এবং পিকেএসএফের মাধ্যমে একাধিক স্তরে তদারকির আওতায় রয়েছে। তাই ‘অনিয়ন্ত্রিত খাত’ হিসেবে দেখিয়ে ব্যাংকিং কাঠামোয় রূপান্তরের যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ।

প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ নিয়ে সবচেয়ে বড় আশঙ্কা হিসেবে ‘মিশন ড্রিফট’ বা লক্ষ্যচ্যুতির কথা উল্লেখ করে তারা বলেন, ব্যাংকিং কাঠামোতে অন্তর্ভুক্ত হলে ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম মুনাফাকেন্দ্রিক হয়ে উঠবে এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পরিবর্তে তুলনামূলক সক্ষম গ্রাহকদের দিকে ঝুঁকে পড়বে। এছাড়া ব্যাংকিং খাতের জটিল প্রক্রিয়া ও আমলাতান্ত্রিক কাঠামোর কারণে ক্ষুদ্রঋণের দ্রুত ও সহজলভ্য সেবা ব্যাহত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত মানবিক সহায়তা দিতে পারে, যা ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সীমিত। ২০২৪ সালের বন্যার সময় ক্ষুদ্রঋণ খাত থেকে কয়েক হাজার কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে, যা এই খাতের নমনীয়তা ও মানবিকতার উদাহরণ।

এ অবস্থায় তারা ক্ষুদ্রঋণ খাতের সংস্কার চাইলেও এর মানবিক ও সামাজিক কাঠামো অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। একই সঙ্গে পিকেএসএফকে আরও শক্তিশালী করা, তদারকি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং সামাজিক নিরীক্ষা চালুর সুপারিশ করেছেন তারা।

তাদের দাবি, ক্ষুদ্রঋণকে ব্যাংকে রূপান্তর না করে বরং আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং স্বচ্ছ করে তোলাই হবে সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর