ঢাকা: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এখন অধ্যাদেশ নিয়ে যা চলছে, তাতে অধ্যাদেশ নিয়ে খেলা চলছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে মাইডাস সেন্টারে ‘রাষ্ট্র্র সংস্কারের লক্ষ্যে প্রণীত কতিপয় অধ্যাদেশ বাতিল ও পরিবর্তন বিষয়ে টিআইবির অবস্থান’ বিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়ন করবেন বলে সরকারি দলের মহাসচিব বলেছেন, আমরা আস্থা রাখতে চাই কিন্তু কঠিন হচ্ছে। প্রকাশ্যে বলছি কঠিন হচ্ছে এই কারণে যে আমরা যেটি দেখতে পাচ্ছি, তারা যেটি বলছেন সেটি কাজে রূপান্তরকার ক্ষেত্রে ভালো দৃষ্টান্ত স্থাপন করছেন না।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এরই মধ্যে যেখানে নিয়োগ হয়েছে বা পরিবর্তন হয়েছে সেগুলো কিন্তু দলীয় বিবেচনায় হয়েছে। তার মধ্যে আছে বাংলাদেশ ব্যাংক দুদক কমিশন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো, এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগ। এই বিষয়গুলো বিচ্ছিন্নভাবে দেখার কোন সুযোগ দেখছি না। কারণ, যে চর্চাটা থেকে আমরা সরে আসবো বলে রাজনৈতিক দলগুলো অঙ্গীকার করেছিল জুলাই আন্দোলনের প্রেক্ষিতে যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাব মুক্ত রাখা। কিন্তু সেই জায়গাটায় তারা থাকছেন না, পূর্বের সরকারের মত আচরণ করছেন।
অধ্যাদেশগুলি আইনে পরিণত হচ্ছে না সেটাতে আসলে বাধা কি মনে করছেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আপনি আমলাতন্ত্রকে দায়ী করেছিলেন, এখন দায়ী কি? প্রশ্নে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘শুধু আমলাতন্ত্রকে দায়ী করি নাই। অন্তর্বর্তী সরকার নিজেও দায়ী ছিল। এখনও একই অবস্থা। আমি বলবো না যে সরকারের সদিচ্ছা নাই, সরকার তো প্রকাশ্যে সদিচ্ছার কথা বলেছেন, কাগজে বলেছেন, দলিলে বলেছেন। সরকার প্রধান কিছু কিছু বক্তৃতা দিচ্ছেন যেটির দৃষ্টান্তগুলো ইতিমধ্যে স্থাপিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, এখন যে অধ্যাদেশে যেটা হচ্ছে, যে খেলাটা হচ্ছে, আমি এটিকে খেলা শব্দটি বলব। জনপ্রতিনিধিত রাজনীতি এখনও নির্ভরশীল আমলাতন্ত্রের উপর। মানবাধিকার কমিশনের এখতিয়ারকে খর্ব করার জন্য যে দাবিগুলো তুলে ধরা হয়েছে সেগুলো আসছে আমলাতন্ত্র থেকে। আমলাতন্ত্র এখনো পর্যন্ত আগের মতই মূল নির্ণয়ক। বাংলাদেশে মন্ত্রীপরিষদ আছে কিন্তু মন্ত্রিপরিষদ কি সিদ্ধান্ত নেয়? আমলাতন্ত্র ভালো হলে তার ক্রেডিট হয়তো আমলাতন্ত্র ও রাজনৈতিক দল নেবে। কিন্তু যেটা নেতিবাচক সেটার দায়িত্বও উভয়কে নিতে হবে।
বিচার বিভাগ দলীয়করণ সরকারের জন্য আত্মঘাতী উল্লেখ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিচার বিভাগে দলীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিচার বিভাগ দলীয়করণ করা সরকারের জন্য আত্মঘাতী। বিচার বিভাগ দলীয়করণ করলে কি অবস্থা হয় বর্তমান সংসদের অনেক সদস্য সেটির সাক্ষী। আর সরকারের কোনো কর্মকর্তাকে গ্রেফতার করতে হলে সেই ক্ষমতা আদালতের হাত থেকে সরকারের হাতে দিতে হবে এটা আমার কাছে ছেলে খেলার মত।