ঢাকা: মধ্যপাচ্যের সাম্প্রতিক যুদ্ধের শুরুর দিতে কুয়েতের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দেশটির বাংলাদেশে নিযুক্ত কুয়েতের রাষ্ট্রদূত আলী থুনায়ুন আব্দুলওয়াহাব হামাদাহ।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ-এর সঙ্গে সৌজন্য বৈঠককালে তিনি এ কৃতজ্ঞতা জানান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশ ও কুয়েতের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব এবং ক্রমবর্ধমান কৌশলগত অংশীদারিত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। রাষ্ট্রদূত দুদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে টেলিফোনে কথা বলার উদ্যোগ এবং যুদ্ধের প্রাথমিক পর্যায়ে কুয়েতের প্রতি সংহতি প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সংঘাতে হস্তক্ষেপ না করা এবং শান্তিপূর্ণ কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি কুয়েতে বসবাসরত প্রায় ৩ লাখ বাংলাদেশি প্রবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় কুয়েত সরকারকে ধন্যবাদ জানান।
প্রতিমন্ত্রী জ্বালানি, অবকাঠামো, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) এবং হালাল খাদ্য খাতে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি কুয়েতি বিনিয়োগকারীদের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাই-টেক পার্কে বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণের আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত হামাদাহ জাতিসংঘ ও ওআইসিসহ বিভিন্ন বহুপাক্ষিক ফোরামে কুয়েতের প্রতি বাংলাদেশের সমর্থনের বিষয়টি স্বীকার করেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে কুয়েতের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি প্রয়োজন হলে কুয়েতকে মানবিক সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রস্তুতির কথাও জানান।
এ ছাড়া পারস্পরিক স্বার্থে নতুন সুযোগ চিহ্নিত এবং সহযোগিতা জোরদারে উচ্চপর্যায়ের সফর বিনিময় ও বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক প্ল্যাটফর্মে নিয়মিত বৈঠক আয়োজনের ওপর জোর দেন প্রতিমন্ত্রী।
কুয়েতের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও কুয়েতে বসবাসরত প্রবাসীদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং দুদেশের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের আহ্বান জানান।