ঢাকা: রাজধানীর বনানী এলাকায় ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় অবৈধভাবে ফুটপাত দখলে রাখার অভিযোগে কয়েকটি হোটেল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বুধবার (১ এপ্রিল) বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উদ্যোগে এ অভিযান চালানো হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বনানী-কাকলী অংশে অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নিজস্ব সীমানার বাইরে ফুটপাত ও সড়কের অংশ দখল করে বিভিন্ন কার্যক্রম চালাচ্ছে। কোথাও খাবারের হোটেলের রান্নার সরঞ্জাম, কোথাও গ্রিল মেশিন, আবার কোথাও আসবাবপত্র ও ওয়ার্কশপের যন্ত্রপাতি ফুটপাতজুড়ে রাখা হয়েছে। এসব সরিয়ে দিতেই অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে ডিএমপির সঙ্গে একজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাস্তার ওপর পাওয়া কিছু মালামাল জব্দ ও অপসারণ করা হয়। কয়েকটি স্থানে তাৎক্ষণিক ভাঙচুরের মাধ্যমে অবৈধ স্থাপনা সরানো হয়েছে।
ট্রাফিক গুলশান বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অভিযান শেষে ট্রাফিক গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, মূল উদ্দেশ্য শাস্তি দেওয়া নয়, বরং মানুষকে সচেতন করা। ফুটপাত সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য। দোকানের বাইরের অংশ ব্যবহার করে ফুটপাত দখল করলে মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে হাঁটে, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ায়।
তিনি আরও জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের ফুটপাত ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। অনেকে তা মেনে নিলেও যারা মানেন নি, তাদের বিরুদ্ধে এ বিশেষ অভিযান চালানো হয়েছে। এ দিনের অভিযানে ছয়-সাতটি দোকানকে প্রায় ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
ডিসি মিজান আরও বলেন, এই অভিযান একদিনের নয়, ধারাবাহিকভাবে চলবে। আমরা এক সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচি নিয়েছি। যদি আবার কেউ ফুটপাত দখল করে, তাহলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে— জেল ও জরিমানার আওতায় আনা হবে।