বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কোরিয়া সরকারের আগ্রহ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ কোরিয়া।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে সিউলে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস যথাযথ মর্যাদা ও উৎসাহের সঙ্গে সিউলের একটি স্থানীয় হোটেলে এক সংবর্ধনার আয়োজন করে। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের গণকূটনীতি বিষয়ক উপমন্ত্রী লিম সাং উ এ কথা বলেন।
বুধবার (১ এপ্রিল) দূতাবাস এক বার্তায় জানায়, সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত, মিশন প্রধানগণ, কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা, কোরিয়ান বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় বসবাসরত বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট সদস্যসহ ২৫০ জনেরও বেশি অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রদূত তৌফিক ইসলাম শাতিল তার বক্তব্যে ১৯৭১ সালের আমাদের মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লক্ষ শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি গত ৫০ বছর ধরে সকল ক্ষেত্রে, বিশেষ করে অবকাঠামো উন্নয়ন, বস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স, অটোমোবাইল এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের নিরন্তর গভীর সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেন। তিনি বিদ্যমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সাথে আমাদের দ্বিপাক্ষিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক সম্প্রসারণে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও তুলে ধরেন।
বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুদক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশের নবনির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার আমাদের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বয়ে সামাজিক সম্প্রীতি, নিয়মভিত্তিক ব্যবস্থা, সুশাসন এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশকে উন্নয়নের পরবর্তী স্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কোরিয়ার উপমন্ত্রী বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাসের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে কোরিয়া সরকারের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
তিনি সম্ভাব্য সকল ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতার বর্তমান পর্যায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে দ্রুত সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (সেপা) স্বাক্ষরিত হবে, যা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মুক্ত বাণিজ্যের গণ্ডি ছাড়িয়ে সেবা খাত, বিনিয়োগ এবং শিল্প সহযোগিতা পর্যন্ত বিস্তৃত করবে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি ও কোরিয়ান শিল্পীদের অংশগ্রহণে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়; যেখানে বেশ কিছু দেশাত্মবোধক কবিতা আবৃত্তি, গান ও নৃত্য পরিবেশন করা হয়।