Friday 10 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

বাড়ছে রাজধানীমুখী মানুষের চাপ, চিরচেনা রূপে ফিরছে ঢাকা

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট
২৮ মার্চ ২০২৬ ১৯:৩৪ | আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ২২:২৬

– ছবি : সারাবাংলা

ঢাকা: পবিত্র ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের দীর্ঘ ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগ দিতে নাড়ির টান ছেড়ে যান্ত্রিক শহর ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে মানুষ।

শনিবার (২৮ মার্চ) ছুটির শেষ দিন হওয়ায় সকাল থেকেই রাজধানীর প্রবেশ পথগুলোতে ঢাকামুখী যাত্রীদের তীব্র চাপ লক্ষ্য করা গেছে। তবে নগরীর অভ্যন্তরীণ রাজপথগুলো এখনো অনেকটাই ফাঁকা।

এবারের ঈদের নির্ধারিত ছুটি আরও আগেই শেষ হলেও অনেক চাকরিজীবী গত ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার ও বুধবার) অতিরিক্ত ছুটি নিয়েছিলেন। এরপর ২৬ মার্চ (বৃহস্পতিবার) স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি এবং ২৭ ও ২৮ মার্চ (শুক্র ও শনিবার) সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় তারা টানা একটি লম্বা সময় কাটানোর সুযোগ পান।

বিজ্ঞাপন

এই দীর্ঘ অবকাশ শেষে আগামীকাল রোববার থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে যাচ্ছে। ফলে আজই ফেরার শেষ সুযোগ হওয়ায় বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটগুলোতে মানুষের ঢল নেমেছে।

বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম বলেন, “গ্রামের বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে দারুণ সময় কাটল। ২৬শে মার্চ আর শুক্রবার-শনিবারের বাড়তি ছুটিটা পাওয়ায় এবার তাড়াহুড়ো ছাড়াই ফিরতে পারলাম।

তিনি আরও বলেন, “রাস্তায় জ্যাম না থাকলেও গুণতে হয়েছে বাড়তি ভাড়া। আর রুটি-রুজির টানে ঢাকা তো ফিরতেই হবে, তবে প্রিয়জনদের ছেড়ে আসাটা সব সময়ই কষ্টের।”

রাজধানীর গাবতলী, সায়েদাবাদ এবং মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় যাত্রীবাহী বাসের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়েছে। উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ থেকে আসা বাসগুলো ঢাকায় প্রবেশের মুখে ধীরগতিতে চলছে। বিশেষ করে আব্দুল্লাহপুর ও যাত্রাবাড়ী মোড়ে যানবাহনের চাপ সবচেয়ে বেশি। তবে রাজধানীর ভেতরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মতিঝিল, শাহবাগ বা ফার্মগেটের মতো ব্যস্ত এলাকাগুলোতে চিরচেনা যানজট নেই বললেই চলে। ফাঁকা রাস্তায় দ্রুতগতিতে চলছে দু-একটি গণপরিবহন। আর ছিল ফাঁকা পথে রিক্সার রাজত্ব।

এদিকে বাড়তি ঝামেলা এড়াতে গতকাল শুত্রুবার ঢাকায় এসেছেন মালিহা আর আরমান দম্পত্তি। আজ ছুটির দিনের বিকেলে ফাঁকা রাস্তায় ঘুরতে বের হয়েছেন। তারা বলেন, গ্রামে সবার সাথে ঈদ শেষে আজ ফাঁকা ঢাকার রাজপথে রিকশাতে ঘুরে বের হওয়া। আগামীকাল থেকে শুরু হয়ে যাবে আগের সেই অফিস রুটিন মাফিক জীবন যাত্রা। তার আগে একটু ঘুরে বেড়ানো। এই ফাঁকা ঢাকা দেখে খুব এ ভালো লাগে।

এখনো অনেকটাই অলস সময় পার করছেন ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা। সুনসান রাজপথে সাঁ সাঁ করে ছুটে চলছে হাতেগোনা কিছু গণপরিবহন আর রিকশা। নেই বাসে ওঠার জন্য যাত্রীদের হুড়োহুড়ি কিংবা ফুটপাতে উপচেপড়া মানুষের ভিড়। ফাঁকা ঢাকার রাস্তায় রিকশা নিয়ে বের হওয়া মো. কালু মিয়া জানান তার অভিজ্ঞতার কথা:

“সারা বছর তো জ্যামে প্যাডেল মারতেই পারি না, দম বন্ধ হয়ে আসে। গত কয়েকদিন জ্যাম ছাড়া ফাঁকা রাস্তায় রিকশা চালিয়ে শান্তি পাইছি। তবে মানুষ কম থাকায় আয় একটু কম। কাল থেকে তো আবার সেই আগের জ্যাম শুরু হয়ে যাবে!”

যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে ঢাকাবাসী যারা এই কয়েকটা দিন শহরেই ছিলেন, তারা প্রাণভরে উপভোগ করছেন এক অন্যরকম শান্ত ও স্নিগ্ধ ঢাকাকে।

আগামীকাল ২৯ মার্চ (রোববার) থেকে বিভিন্ন অফিস এবং গার্মেন্টস কারখানাগুলো পূর্ণোদ্যমে চালু হবে। ফলে কাল সকাল থেকেই রাজধানী আবার তার চিরচেনা জনাকীর্ণ রূপে ফিরবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।