Friday 27 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

রোজার বাজারে কমেছে উত্তাপ, স্বস্তি ক্রেতাদের

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১২:৩২

ঢাকা: পবিত্র রমজান মাসের প্রথম সপ্তাহ পার হতেই রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে বিরাজ করছে ভিন্ন এক আমেজ। রোজা শুরুর আগে ও প্রথম দু-তিন দিন যে অস্থিরতা ও দামের উত্তাপ ছিল, তা এখন অনেকটাই ম্লান। লেবু, শসা, বেগুনের মতো অধিকাংশ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, কচুক্ষেত, মিরপুর, মহাখালী ও মোহাম্মদপুরের বাজারগুলোতে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, চাহিদা কমে যাওয়ায় লেবু, বেগুন, কাঁচা মরিচসহ রোজা সংশ্লিষ্ট পণ্যের আগুন দামও এখন অনেকটাই ঠান্ডা। পাশাপাশি অন্যান্য প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কেজিপ্রতি অন্তত ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকায় এবং পেঁয়াজ ৪০ থেকে ৪৫ টাকায়। এক সপ্তাহের ব্যবধানে আলুর দাম কেজিতে ৫ টাকা এবং পেঁয়াজের দাম ২০ টাকা কমেছে। আর রোজার আগের দিন যে লেবু হালিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা নেমে এসেছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বড় আকারের লেবু বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকায়, যা রোজার আগে ১৫০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, শসা ও বেগুনের দামও কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে। বর্তমানে শসা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় এবং বেগুন ৬০ থেকে ৮০ টাকায়। বাজারে ক্রেতা কম থাকায় ব্যবসায়ীরা বলছেন, দাম আপাতত স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনাই বেশি। রোজার শুরুতে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকায় উঠেছিল। তবে বর্তমানে বিভিন্ন বাজারে ভালোমানের কাঁচা মরিচ খুচরায় বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা কেজিতে। আর পাড়া-মহল্লার ভ্যানে সাধারণ মানের মরিচ পাওয়া যাচ্ছে ১০০ টাকায়।

অন্যদিকে, রোজাকে কেন্দ্র করে ফুলকপি, মুলা ও শিমের মতো কিছু সবজির চাহিদা কমে গেছে। ফলে এসব পণ্যের দামও নেমে এসেছে। বর্তমানে শিম বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। একই দামে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে মুলা, গাজর, পেঁপে, ফুলকপি ও বাঁধাকপিসহ পাঁচ থেকে ছয় ধরনের সবজি পাওয়া যাচ্ছে। চাহিদা কম থাকায় বাজারে এসব পণ্যে স্বস্তি ফিরেছে।

মাংস ও ডিমের বাজারেও দামের কিছুটা পতন দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগি বর্তমানে কেজিপ্রতি ১৬৫ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা। এছাড়া ফার্মের মুরগির ডিম ডজনপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১৫ টাকায়। তবে মাছের দাম একটু চড়া। বড় সাইজের চিংড়ি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০০ টাকায়, শৌল মাছ প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, ভেইদা মাছ ৮০০ টাকা, রুই মাছ ৩২০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি। এছাড়া, চাষের তেলাপিয়া, পাঙাশ, পাবদা, কই, শিং, কাতলের দাম আগের চেয়ে কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা বেড়েছে। তবে সাধ্যের মধ্যে আছে ডিমের দাম, এক ডজন ডিম বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, রোজার একেবারে শুরুতে সাধারণ মানুষের মধ্যে একবারে পুরো মাসের বাজার করার যে ‘প্যানিক বায়িং’ বা হিড়িক ছিল, তা এখন নেই। এছাড়া ঢাকার অনেক মানুষ স্কুল-কলেজের ছুটিতে গ্রামে চলে যাওয়ায় চাহিদাও কিছুটা কমেছে। সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকায় বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

এদিকে, সবজির দাম কমলেও ফলের বাজার এখনো কিছুটা চড়া বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ ক্রেতারা। তবুও চাল, ডাল, তেল ও মাংসের মতো প্রধান পণ্যগুলোর দাম স্থিতিশীল থাকায় এবারের রমজানে বড় ধরনের ভোগান্তির আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।

সারাবাংলা/এমএইচ/এনজে
বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত
২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪৩

আরো

সম্পর্কিত খবর