Wednesday 25 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

নিজের অপরাধ ঢাকতেই অভিযোগ তুলেছেন প্রসিকিউটর সুলতান: তাজুল ইসলাম

স্পেশাল করেসন্ডেন্ট
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:১০

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম – ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা:  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ কর্তৃক আনীত দুর্নীতির অভিযোগ ‘ডাহা মিথ্যা’ বলে দাবি করেছেন ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, নিজের অপরাধ ঢাকতেই প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ আমার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। ট্রাইব্যুনালে আমার শেষ কার্যদিবসে তিনি এমন অভিযোগ তোলেন। এটি ডাহা মিথ্যা অভিযোগ। এ বিষয়ে ওইদিনই প্রতিবাদ জানিয়েছি। এরপরও বিষয়টি নিয়ে কয়েকটি গণমাধ্যমে উঠে পড়ে লেগেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তাজুল ইসলাম বলেন, আমি অনেক আগেই সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলাম। এর প্রমাণও তুলে ধরেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বিশ্বাস, শৃঙ্খলা ও আচরণবিধি ভঙ্গ করা, নিরাপত্তা প্রহরীকে মারধর, স্ত্রীকে নির্যাতন করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দেড় মাস আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর বিএম সুলতান মাহমুদ-কে অপসারণের অনুরোধ করা হয়েছিল। এই অনুরোধ জানিয়ে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকে তিনি গত ১১ জানুয়ারি চিঠি পাঠান।

সেই চিঠিটি মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আল জাজিরার অনুসন্ধানি সাংবাদিক জুলকার নাইন সায়ের তার ফেসবুক পোস্টে তুলে ধরেছেন।

ওই চিঠিতে তাজুল ইসলাম বলেছেন, প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত ট্রাইব্যুনালের গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত গোপনীয় তথ্যাদি বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহ করছেন বলে তিনি জেনেছেন। চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ের অনুমোদন ছাড়াই স্বপ্রণোদিতভাবে প্রসিকিউটর হিসেবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ ও গোপনীয় তথ্য আইনবহির্ভূতভাবে অন্যত্র সরবরাহ একটি বেআইনি কর্মকাণ্ড এবং তদন্ত ও বিচারাধীন স্পর্শকাতর মামলার জন্য গুরুতর নিরাপত্তাহুমকি।

চিঠিতে তাজুল ইসলাম প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালের গুরুত্বপূর্ণ ও অত্যন্ত গোপনীয় তথ্যাদি বিভিন্ন জায়গায় সরবরাহের অভিযোগ করেন। গানম্যানের ওপর নির্যাতন এবং স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগও করা হয় ওই চিঠিতে। তিনি লেখেন, সুলতান মাহমুদের কর্মকাণ্ড ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং আদালতের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করেছে।

তাজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ হাইকোর্টের অ্যানেক্স ভবনের লিফটে যাতায়াতের সময় হাইকোর্টের নিরাপত্তা প্রহরী মো. মাঈন উদ্দিনকে তুচ্ছ ঘটনাক্রমে উত্তেজিত হয়ে অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং জোর করে তাকে গানম্যান দিয়ে ধরে বার অ্যাসোসিয়েশনের অফিসকক্ষে নিয়ে যান। তারপর মাঈন উদ্দিনকে প্রচণ্ড মারধর করেন। এতে তার চোয়াল, হাত, মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ জখম হয়। গুলি করে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় তাকে। সুলতান মাহমুদের এমন কর্মকাণ্ডে ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিম ও ট্রাইব্যুনালের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে।

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ গানম্যানকে দিয়ে তুচ্ছ কারণে যত্রতত্র যাকে–তাকে গুলি করার নির্দেশ দেন বলেও অভিযোগ করেন তাজুল ইসলাম। চিঠিতে তিনি আরও বলেন, এই অভিযোগে এ পর্যন্ত চারজন গানম্যান স্বেচ্ছায় সুলতান মাহমুদের সঙ্গে দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানান। এমন অবস্থায় তাৎক্ষণিক গানম্যান পরিবর্তন করে দিতে হয়।

অপসারণ–অনুরোধে তাজুল ইসলাম আরও অভিযোগ করেন, সুলতান মাহমুদ তার স্ত্রীকে শারীরিক, মানসিক ও সামাজিকভাবে নির্যাতন করেন। এ বিষয়ে তার স্ত্রী অভিযোগ দাখিল করেছেন।

প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ বিভিন্ন সময়ে মামলার সাক্ষী ও ভুক্তভোগীদের বাসায় ডেকে নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক পরামর্শ, মিথ্যা তথ্য ও উসকানি প্রদানের মাধ্যমে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেছিলেন তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

চিঠিতে তাজুল ইসলাম লেখেন, এমন কর্মকাণ্ড ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং আদালতের ভাবমুর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। দায়িত্ব পালনে কর্তৃপক্ষের আদেশ অমান্য করা, দায়িত্ব পালনে উদাসীনতা ও অনাগ্রহ, নিজ কর্তব্য সঠিকভাবে পালন না করা এবং নির্দিষ্ট দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও গাফিলতি নিয়মিতভাবে পরিলক্ষিত হয়ে আসছে।

এসব কারণে প্রসিকিউটর পদ থেকে সুলতান মাহমুদকে অপসারণের অনুরোধ করেন তাজুল ইসলাম। চিঠির সঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর বরাবর নিরাপত্তা প্রহরী মাঈন উদ্দিনের দেওয়া অভিযোগ এবং চিফ প্রসিকিউটর বরাবর হাতে লেখা সুলতান মাহমুদের স্ত্রীর একটি চিঠিও যুক্ত করেন তিনি। তবে আল জাজিরার ওই সাংবাদিকের পোস্টে প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ-এর কোনো বক্তব্য দেননি।

সারাবাংলার পক্ষ থেকেও প্রসিকিউটর সুলতান মাহমুদ-এর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচারের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়ে এই ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। এ সময় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী তাজুল ইসলাম ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান। এর আগে এই ট্রাইব্যুনালেই একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার আসামি জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের আইনজীবী ছিলেন তাজুল ইসলাম।

বিজ্ঞাপন

রমজানের রাত্রি ও তারাবির আলোকিত আবহ
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:২৪

রাজশাহীতে ছুরিকাঘাতে যুবককে হত্যা
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৬:১৬

আরো

সম্পর্কিত খবর