শরীয়তপুর: মাছ চুরির অপবাদে দরিদ্র যুবক সেলিম পাইককে নির্যাতনের ঘটনায় প্রধান আসামি শাহিন মাদবরকে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-৮ (মাদারীপুর) ও র্যাব-১০-এর যৌথ তৎপরতায় ঢাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
র্যাব-৮ এর কোম্পানী কমান্ডার (পুলিশ সুপার) মুনীর হোসেনের পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ ফেব্রুয়ারি ডামুড্যা উপজেলার কনেশ্বর ইউনিয়নের ইকুরি এলাকার দরিদ্র যুবক সেলিম পাইক ঘেরের পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় তাকে মাছ চোর সন্দেহে ধাওয়া করে কয়েকজন কর্মচারী। একপর্যায়ে তিনি পানিতে ঝাঁপ দিলে সেখান থেকে তুলে এনে প্রথম দফায় মারধর করা হয়। পরে তাকে বেঁধে ঘেরের একটি ঘরে রাখা হয়। পরে ঘের মালিক শাহীন মাদবর এসে সেলিমের হাত রশি দিয়ে বেঁধে মাটিতে ফেলে বাঁশের লাঠি দিয়ে তার পায়ে একের পর এক আঘাত করেন।
এ সময় সেলিম নিজেকে নির্দোষ দাবি করে চিৎকার করলেও হামলাকারীরা থামেনি। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে এনে ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। নির্যাতনে সেলিমের ডান পা ভেঙে গেছে।
খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকায় জাতীয় অর্থোপেডিক পঙ্গু হাসপাতাল পাঠানোর পরামর্শ দেন।
এদিকে নির্যাতনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয় এবং বিভিন্ন গনমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনায় গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সেলিম পাইকের বড় বোন মাকসুদা বেগম ডামুড্যা থানায় আহত ৫জনকে আসামি করে একটি অভিযোগ দেন। মামলার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে র্যাব-৮ (মাদারীপুর) ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেফতারের জন্য ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং বিশ্বস্ত সোর্স নিয়োগ করে।
এরই ধারাবাহিকতায় রোববার দুপুরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-৮ (মাদারীপুর) ও র্যাব-১০ (ঢাকা) শাহীন মাদবর গ্রেফতার করে। পরে রাতেই তাকে শরীয়তপুরের ডামুড্যা থানায় হস্তান্তর করে।
এব্যাপারে ডামুড্যা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রবিউল হক বলেন, মামলার প্রধান আসামী শাহীন মাদবরকে র্যাবের সহযোগিতায় ঢাকা থেকে আটক করা হয়েছে। আগামীকাল আদালতের মাধ্যমে জেলা হাজতে পাঠানো হবে।