Sunday 22 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

পুকুর কেটে ‘পুকুর চুরি’, কমছে কৃষিজমি!

শরিফুল ইসলাম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৬

নাটোর: জেলার নলডাঙ্গায় স্থাপনা নির্মাণের পাশাপাশি ফসলি জমি সংস্কারের নামে নির্বিচারে চলছে পুকুর খনন। উপজেলা প্রসাশনের কঠোর হুঁশিয়ারির পরও কিছুতেই কমছে না পুকুর খননের নামে মাটি বিক্রি। এরই মধ্যে উপজেলা প্রসাশন অভিযান চালিয়ে একাধিক পুকুর খনন বন্ধ করেছে এবং ভেকুর ব্যাটারি জব্দ করেছে।

নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষিবিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালে উপজেলায় কৃষি জমির পরিমাণ ছিল ১৪ হাজার ৬৫ হেক্টর, যা কমে ২৪ সালে দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৯৬০ হেক্টর। গত ১০ বছরে এই অঞ্চলে কমেছে প্রায় ৮০০ বিঘার বেশি কৃষিজমি।

সেইসঙ্গে সংকুচিত হয়েছে দেশের গভীরতম হালতিবিল। উপজেলায় পুকুর খননের মহোৎসব চললেও তা কিছুতেই রোধ করা যায়নি। অভিযোগ উঠেছে, প্রশাসনের এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর পরোক্ষ যোগসাজসে চলেছে এমন অপকর্ম।

বিজ্ঞাপন

আইন কানুনের তোয়াক্কা না করে অবৈধভাবে পুকুর খনন করায় কমে যাচ্ছে আবাদি জমি। এতে কৃষিজমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতাসহ চাষাবাদে স্থায়ী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন কৃষকরা। এ ছাড়া, পাকা সড়কে পুকুরের মাটি পড়ে পরিণত হয়েছে কাঁচা সড়কে।

ফসলি জমিতে পুকুর খননে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সে আইনের তোয়াক্কা করছেন না কেউই। ফলে আবাদি জমির পরিমাণ কমে যাওয়াসহ খনন করা পুকুরের পাশে শত শত বিঘা জমিতে স্থায়ী জলাবদ্ধতা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবার ইচ্ছেমতো নষ্ট করা হচ্ছে দেশের সবচেয়ে গভীর জলাশয় হালতিবিলকে। বিলের ঠিক মাঝখানে ঠাঁই দাঁড়িয়ে রয়েছে হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট এবং এখনো বিলের কৃষিতে নিমার্ণ করা হচ্ছে স্থাপনা। স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি বিলপাড়ের মানুষ বাধা দিলেও নেতাদের দাপটে সেটা আর থামানো যায়নি। ফলে বিলের স্বাভাবিক নৌ চলাচলও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বর্ষাকালে দেশি প্রজাতির অন্তত শতাধিক প্রজাতির মাছের আধার তৈরি হয় এই হালতিবিলে। উন্মুক্ত জলাশয় থেকে মাছ শিকার করে জীবন-জীবিকা চলে বিল দুটির অন্তত লক্ষাধিক মানুষের। কিন্তু বিলের মাঝখানে বেসরকারি এমন স্থাপনায় পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্তের পাশাপাশি মাছের স্বাভাবিক প্রজনন নষ্ট করছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে মাছের স্বাভাবিক উৎপাদন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে হালতিবিলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব দিন দিন নষ্ট করা হচ্ছে। পুকুর খনন বন্ধে বিগত সময়ে কৃষকরা মানববন্ধনের মতো প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করলে বন্ধ হয়নি এই কাজ। নির্বিচারে পুকুর খনন ও স্থানী স্থাপনা নির্মার্ণের প্রভাব পড়ছে বিল অঞ্চলের নানা পেশার মানুষের ওপর। তাই উপজেলায় ফসলি জমিতে পুকুর খনন বন্ধ ও হালতিবিল রক্ষায় এটিকে সংকটাপন্ন হিসেবে ঘোষণার দাবি বিল পাড়ের মানুষদের।

এলাকাবাসীরা জানান, নলডাঙ্গা উপজেলার হাজার হাজার কৃষকের সংসার চলে মাঠের ফসল উৎপাদন করে। পুকুর খননের কারণে সড়কে বেহাল অবস্থার সৃষ্টি হয়। উপজেলার কিছু প্রভাবশালীর কারণে মাটি ব্যবসায়ীরা এসব কাজ করে থাকে। প্রশাসনের কাছে দাবি, হালতিবিলসহ উপজেলার কোথাও যেন কোনোভাবেই পুকুর খনন করতে দেওয়া না হয়।

এদিকে সাম্প্রতিক ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল নাটোরের হালতিবিলে কৃষি কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন। সেইসঙ্গে হালতিবিলের ব্লকের বিভিন্ন কৃষিজমি ও ফসল পরিদর্শন করেন তারা। পরিদর্শন শেষে মার্কিন প্রতিনিধি দলের প্রধান মিস সারাহ জেলেস্কি ও মার্কিন দূতাবাস কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ বিলের কৃষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

নলডাঙ্গার সাবেক (সদ্য বিদায়ী) উপজেলা মৎস্য অফিসার সজ্ঞয় কুমার সারাবাংলাকে বলেন, ‘উপজেলায় পুকুর রয়েছে সাড়ে তিন হাজার। উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পুকুর রয়েছে বিপ্রবেলঘরিয়া ও পিপরুল ইউনিয়নে। তারপরেও চলছে নির্বিচারে পুকুর খনন।’

নলডাঙ্গা উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সবুজ আলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘কোনোভাবেই কৃষিজমি পুকুরের আওয়াতায় আনা যাবে না। আইনগতভাবে নিষিন্ধ রয়েছে। কৃষি জমিতে পুকুর খনন বন্ধে ঊর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুকুর খনন বন্ধে কৃষিবিভাগ কৃষকদের সঙ্গে কাজ করছে।’

নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো.আল এমরান খাঁন সারাবাংলাকে বলেন, ‘কৃষিজমি খনন করে পুকুর বানানো চলবে না। মাটি কাটা বিষয়ে উপজেলা প্রসাশন কঠোর অবস্থানে আছে। আমরা সবসময় প্রস্তুত আছি। অভিযান চলবে।’

বিজ্ঞাপন

চকরিয়ায় ৪ ছিনতাইকারী গ্রেফতার
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪২

পুকুর কেটে ‘পুকুর চুরি’, কমছে কৃষিজমি!
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৭:৫৬

আরো

সম্পর্কিত খবর