Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো মামলা
সাবেক এমপি সাইফুলসহ ৬ জনের মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:৪০ | আপডেট: ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪১

সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলাম।

ঢাকা: চব্বিশের জুলাই-আগস্ট আন্দোলনকে কেন্দ্র করে আশুলিয়ায় ছয়জনের লাশ পোড়ানোসহ সাতজনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১৬ আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রায়ে ঢাকা-১৯ আসনের (সাভার-আশুলিয়া) সাবেক এমপি মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া একজন আসামিকে খালাস দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বিজ্ঞাপন

দণ্ডাদেশের পাশাপাশি সাইফুল ইসলামের সম্পত্তি জব্দ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। মামলার অপর আসামিদের মধ্যে আব্দুল মালেক, বিশ্বজিৎ সাহা, মুকুল চোকদার, আরাফাত উদ্দিন এবং কামরুল হাসানকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অন্য আসামিরা হলেন- আশুলিয়া থানার তৎকালীন ওসি এএফএম সায়েদ রনি, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা রনি ভূঁইয়া, আশুলিয়া থানার তৎকালীন এসআই আবদুল মালেক, সাবেক এএসআই বিশ্বজিৎ সাহা ও কনস্টেবল মুকুল চোকদার।

যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত সাতজন হলেন- ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান রিপন, ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, ডিবির তৎকালীন পরিদর্শক আরাফাত হোসেন ও সাবেক পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) নির্মল কুমার দাস।

সাত বছরের সাজা পেয়েছেন দুইজন। তারা হলেন- এসআই আরাফাত উদ্দিন ও এএসআই কামরুল হাসান। আর খালাস পেয়েছেন সাবেক এসআই শেখ আবজালুল হক। তিনি এ মামলায় রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন।

এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সাভারের আশুলিয়ায় পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ছয় তরুণ। এরপর পুলিশ ভ্যানে তাদের লাশ তুলে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নৃশংস এ ঘটনার সময় একজন জীবিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে; তবে পেট্রোল ঢেলে তাকেও পুড়িয়ে মারা হয়। এছাড়া এর আগের দিন একজন শহিদ হয়েছিলেন। তারা হলেন– সাজ্জাদ হোসেন সজল, আস সাবুর, তানজিল মাহমুদ সুজয়, বায়েজিদ বোস্তামী, আবুল হোসেন, ওমর ফারুক ও মোহাম্মদ সাহাবুল ইসলাম।

পরে ওই ঘটনায় একই বছরের ১১ সেপ্টেম্বর মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হয়।

এরপর ২০২৫ সালের ২ জুলাই প্রসিকিউশনের জমা দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আদালত। অভিযোগের সঙ্গে অন্যান্য তথ্যসূত্র হিসেবে ৩১৩ পৃষ্ঠা, সাক্ষী ৬২, দালিলিক প্রমাণাদি ১৬৮ পৃষ্ঠা ও দুটি পেনড্রাইভ যুক্ত করে প্রসিকিউশন।

গত ২১ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। সে সময় উপস্থিত আট আসামির সাত জনই নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তবে দোষ স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দিয়েছেন এসআই শেখ আবজালুল হক। এ মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা জানে আলম খানসহ মোট ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে।

চলতি বছরের গত ২০ জানুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। ওই দিন প্রসিকিউশনের পক্ষে যুক্তিখণ্ডন করেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম। আসামিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন, মিরাজুল আলম ও আবুল হাসান। এরও আগে আসামিদের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর