Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

জ্বালানি খাতের মহাপরিকল্পনা কার স্বার্থে—প্রশ্ন সিপিডি’র

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১৯:২৭ | আপডেট: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬ ০০:১৬

-ছবি : সংগৃহীত

ঢাকা: অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মহাপরিকল্পনা (২০২৬–২০৫০) নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি)

সংস্থাটির অভিযোগ, এই গুরুত্বপূর্ণ মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ে সিপিডিকে আগে থেকে কিছুই জানানো হয়নি, নেওয়া হয়নি কোনো পরামর্শও। এতে সংস্থাটি বিব্রত বোধ করছে বলে জানিয়েছে সিপিডি।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ধানমন্ডিতে সিপিডি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন সিপিডির গবেষণা ফেলো ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। ‘অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবিত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা (২০২৬–২০৫০): সিপিডির তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সিপিডির সিনিয়র রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট হেলেন মাশিয়াত প্রিওতি।

বিজ্ঞাপন

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, তাড়াহুড়া করে এই মহাপরিকল্পনার খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। তাঁর ভাষায়, “এই মহাপরিকল্পনা কি কোনো চুক্তির পূর্বশর্ত পূরণের জন্য করা হচ্ছে, নাকি এটি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দেশের স্বার্থ রক্ষার উদ্যোগ—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।”

তিনি আরও বলেন, একটি উন্মুক্ত ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে এ ধরনের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গবেষণাভিত্তিক, অংশগ্রহণমূলক এবং রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সংযুক্ত হওয়ার কথা। কিন্তু এই খসড়ায় তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। এমনকি এলএনজিসহ বর্তমানে জ্বালানি খাতে যে সংকট চলছে, তা এই মহাপরিকল্পনায় কার্যত অনুপস্থিত রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ড. মোয়াজ্জেম বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকার মাত্র এক মাসের মধ্যে নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবে। সেই অবস্থায় এত তাড়াহুড়া করে কেন এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হলো? এই তৎপরতা কি কাউকে তুষ্ট করার জন্য, নাকি কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তির পূর্বশর্ত পূরণের অংশ?”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সিপিডি দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত নিয়ে কাজ করে আসছে। আগের সরকারের সময় নানা বৈষম্যমূলক পরিস্থিতির মধ্যেও সংস্থাটি গবেষণা চালিয়েছে। বর্তমান সরকারের সময়ে কিছুটা সহযোগিতার পরিবেশ তৈরি হলেও, এত বড় একটি মহাপরিকল্পনার খসড়া সিপিডির অগোচরে প্রণয়ন হওয়া তাদের জন্য বিব্রতকর।

ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম হয়তো অন্য বিশেষজ্ঞরা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে যারা কাজ করেন, তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে দেখেছি—কেউই এ বিষয়ে কিছু জানেন না। কোথা থেকে বিশেষজ্ঞ মতামত বা গবেষণা নেওয়া হয়েছে, সেটিও স্পষ্ট নয়।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ভবিষ্যতের জন্য সুপারিশ করে বলেন, “আগামীতে যারা নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠন করবেন, জ্বালানি খাতে যেন একজন সাউন্ড ও দক্ষ মন্ত্রী দায়িত্ব পান—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

সিপিডির মতে, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মতো সংবেদনশীল ও দীর্ঘমেয়াদি গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় স্বচ্ছতা, অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া এবং বাস্তব সংকট বিবেচনায় নিয়ে পরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি।

সারাবাংলা/এসএ/এসআর
বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর