Friday 20 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

প্রেমিকাকে দিয়ে হানিট্র্যাপ, টাকা না পেয়ে ব্যবসায়ীকে ২৬ টুকরা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৩:১৫ | আপডেট: ১৫ নভেম্বর ২০২৫ ১৫:৫১

ঢাকা: প্রেমিকাকে দিয়ে হানিট্র্যাপে ফেলা হয়েছিল রংপুরের ব্যবসায়ী আশরাফুল হককে। এরপর নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ব্লাকমেইলিংয়ের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু এই টাকা না পেয়ে হত্যার পর জরেজ ও তার প্রেমিকা শামীমা মিলে আশরাফুলকে হত্যার পর ২৬ টুকরা করে।

শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর কাওরানবাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত ১১ নভেম্বর রাত ৮টায় ব্যবসায়ী আশরাফুল হক তার ব্যবসা-সংক্রান্ত পাওনা আদায়ের লক্ষ্যে একই গ্রামের বাসিন্দা বন্ধু জরেজুল ইসলামের সঙ্গে রংপুর থেকে ঢাকায় আছেন। পরদিন সকাল থেকে তার পরিবার ভিকটিমের মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তা বন্ধ পায়। পরে গত ১৩ নভেম্বর হাইকোর্ট কাছে পানির পাম্প সংলগ্ন দুটি নীল রঙের ড্রামে অজ্ঞাতনামা পুরুষের ২৬ খণ্ডের মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। লাশের হাতের আঙুলের ছাপ বিশ্লেষণ করে নিশ্চিত করা হয় অজ্ঞাত লাশটি নিখোঁজ ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের। পরদিন ভিকটিমের বোন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করে। এরপর হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জরেজুলের প্রেমিকা শামীমা আক্তার ওরফে কোহিনুকে (৩৩) গ্রেফতার করে র‍্যাব।

বিজ্ঞাপন

লে. কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন বলেন, আসামি শামীমা আক্তারের দেওয়া তথ্যমতে ও তার মোবাইল ফোন বিশ্লেষণে জানা যায় হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জরেজুলের সাথে তার এক বছরের বেশি সময় ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। জরেজ শামীমাকে জানায় তার এক বন্ধুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ব্লাকমেইল করে ১০ লাখ টাকা আদায় করা যাবে, যা জরেজ ৭ লাখ টাকা নেবে এবং শামীমা ৩ লাখ টাকা ভাগ করে নেবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী শামীমা ভিকটিম আশরাফুল ইসলামের সাথে একমাস আগে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ শুরু করে তার প্রতি আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। মোবাইল ফোনে তাদের নিয়মিত অডিও এবং ভিডিও কলে কথা চলতে থাকে।

গত ১১ নভেম্বর রাত ৮টায় জরেজ ভিকটিম আশরাফুলকে নিয়ে ঢাকায় রওনা করে। ঢাকায় আসার পর গত ১২ নভেম্বর জরেজুল ও আশরাফুল শামীমার সাথে দেখা করে শনির আখড়ার নূরপুর এলাকায় সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে একটি বাসা ভাড়া করে তিনজন একত্রে বাসায় ওঠেন। রংপুর থেকে ঢাকায় আসার পূর্বে জরেজুল তার প্রেমিকা শামীমাকে ফোনে জানায় আশরাফুলের সঙ্গে সে যেন অন্তরঙ্গ ভিডিও ধারণ করে এবং পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সেই ভিডিও দেখিয়ে যাতে ১০ লাখ টাকা আদায় করা যায়।

তিনি বলেন, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ভিকটিম আশরাফুলকে মাল্টার শরবতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হালকা অচেতন করে। পরে যখন একান্ত সময় কাটায় তখন জরেজ ভিডিও ধারণ করে। ওই ভিডিও শামীমার মোবাইল থেকে ভিডিও ধারণ করা হয়, যা বর্তমানে উদ্ধারকৃত মোবাইলে রয়েছে। গত ১২ নভেম্বর দুপুরে আশরাফুল পুরোপুরি অচেতন হয়ে পড়লে জরেজ আশরাফুলের হাত দড়ি দিয়ে বেধে ফেলে এবং মুখ স্কসটেপ দিয়ে আটকে দেয়। জরেজ অতিরিক্ত ইয়াবা সেবন করে উত্তেজিত হয়ে অচেতন থাকা ভিকটিম আশরাফকে হাতুড়ি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। অতিরিক্ত আঘাত এবং মুখ স্কসটেপ দিয়ে আটকানো থাকায় শ্বাস না নিতে পেরে ঘটনা স্থলেই আশরাফুল মারা যায়।

তিনি আরও বলেন, লাশ একই ঘরে রেখে জরেজ ও শামীমা রাত্রীযাপন করে এবং তারা শারীরিক সম্পর্কে লিপ্ত হয়। আশরাফুলের মৃতদেহ গুম করার উদ্দেশ্যে গত ১৩ নভেম্বর সকালে জরেজ নিকটস্থ বাজার হতে চাপাতি ও ড্রাম কিনে আনে। জরেজ চাপাতি দিয়ে লাশ ২৬ টুকরা করে দুইটি নীল রঙের ড্রামে ভরে রাখে। এরপর দুপুর ২টা ৪৩ মিনিটে একটি সিএনজি ভাড়া করে ড্রাম দুটি সিএনজিতে নিয়ে দুপুর ২টা ৫২ মিনিটে বাসা হতে রওনা করে। পথে তারা ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা চিন্তা করে সিএনজি পরিবর্তন করে অন্য একটি সিএনজিতে রওনা করে। বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে হাইকোট মাজার গেইটের নিকট আসলে রাস্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দেখে লাশভর্তি ড্রামদুটি হাইকোর্টের পানির পাম্প সংলগ্ন প্রধান সড়কের পাশে একটি বড় গাছের নিচে ফেলে তারা অতিদ্রুত হাইকোট এলাকা হতে একটি অটো যোগে সায়েদাবাদ চলে যায়। এরপর জরেজ শামীমাকে কুমিল্লায় তার নিজবাড়িতে চলে যেতে বলে এবং সে রংপুর তার নিজের বাড়িতে চলে যাবে বলে শামীমাকে জানায়। সে অনুযায়ী শামীমা কুমিল্লা তার নিজ বাড়িতে চলে যায় এবং জরেজের সাথে তার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

র‍্যাব-৩ এর অধিনায়ক বলেন, শামীমার দেওয়া তথ্যমতে ভিকটিম আশরাফুলের রক্তমাখা সাদা রঙের পায়জামা-পাঞ্জাবিসহ হত্যার কাজে ব্যবহৃত দড়ি, স্কসটেপ, একটি গোলগলা গেঞ্জি এবং একটি হাফ প্যান্ট একটি বস্তার ভেতর মুখবাধা অবস্থায় শনির আখড়াস্থ নূরপুর এলাকা হতে র‌্যাব-৩-এর একটি আভিযানিক দল উদ্ধার করে। ব্লাকমেইল করে টাকা উপার্জন করাই তার মূল উদ্দেশ্য ছিল। তবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্বশত্রুতা আছে কি না, তা মূল আসামি জরেজুলকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসবে।

বিজ্ঞাপন

আকিজ গ্রুপে কাজের সুযোগ
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৮

চাকরি দিচ্ছে আরএফএল
২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৪

আরো

সম্পর্কিত খবর