ঢাকা: জাতীয় সংসদের অধিবেশন মুলতবি হওয়ার মাত্র ১০মিনিট আগে বিরোধীদলীয় নেতার নেতৃত্বে ফের ওয়াকাআউট করেছেন জামায়াতে ইসলামীসহ বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরা।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেন বিরোধীদলীয় জোট।
ওয়াকআউট করার সময় বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আজ রাত ১২টার মধ্যে সময় শেষ হয়ে যাবে, যে ১৬টি অধ্যাদেশ পাস হলো না তা সব ল্যাপস হয়ে যাবে। সেজন্য আমরা আর সংসদে থাকতে পারছি না।’
এ সময় আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘১৩৩টির মধ্যে ৯১টি বিল পাস করা হয়েছে। ১৬টি বাদে এই ৯১টির মধ্যে সবগুলো অধ্যাদেশ রয়েছে। এই ১৬টি অধিকতর যাচাই বাছাই করে নতুন করে বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে।’
আইনমন্ত্রীর বক্তব্যে সন্তষ্ট না হয়ে বিরোধীদলীয় নেতা সবাইকে নিয়ে সংসদ থেকে বের হয়ে যান। যাওয়ার সময় সবাইকে সালাম দিয়ে বলেন, ‘ইনশাআল্লাহ আবার দেখা হবে, এখানেই দেখা হবে, তবে আজকের মতো দুঃখ নিয়ে ওয়াকআউট করছি।’
এর কিছুক্ষণ আগে ফ্লোর নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অধিবেশন শুরুর আগে থেকেই ডকুমেন্টস না দেওয়ায় চাপা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমরা কার্য উপদেষ্টা কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে দুটি বিষয়ে অনুরোধ করেছিলাম। একটা হলো ১৩৩টি অধ্যাদেশের সবগুলো এখানে আসবে। আরেকটি বিষয় ছিল, ৩ দিন আগে আমাদেরকে ডকুমেন্টগুলো দেওয়ার কথা। সমস্যা ও বাস্তবতা বিবেচনা করে বলা হয়েছিল, ন্যূনতম একদিন আগে দেওয়া হবে। কিন্তু আমি তো অর্থনীতির ছাত্র না। এতগুলো ডকুমেন্ট টেবিলে আসার পর আমাকে দেওয়া হয়েছে।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘একদিকে সংসদ চলছে, আরেক দিকে ডকুমেন্টগুলো এখানে রেখে দেওয়া হয়েছে। যেহেতু দুর্বল ছাত্র, তাই কিছুই বুঝতে পারিনি। এখন উপরে হাত তুলব, নাকি নিচে নামাব সেটাও বুঝতে পারিনি। সংসদ সদস্য হিসেবে যদি কিছুই না বুঝে ‘হ্যাঁ’ বলি, তাহলে সেটা হবে অপরাধ। আবার না বুঝে ‘না’ বললে, সেটাও হবে অপরাধ। এ জন্য চুপ থেকেছি।’’
জামায়াত আমির বলেন, ‘এখানে সরকারি দলের সদস্য যারা আছেন, তারা হয়ত সবাই অর্থনীতির ছাত্র, খুব স্মার্ট এবং খুব মেধাবী ছাত্র ছিলেন। ফলে কাগজ দেখা মাত্রই ভেতরে কী আছে, তারা হয়ত সেটা বুঝে ফেলেছেন। কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি। এটা আমাদের অক্ষমতা। এখন আমরা কী করব, সেই বিষয়ে আমাদেরকে একটু পরামর্শ দেন।’
বিরোধীদল ওয়াকআউটের পর একটি বিল পাসের পর রাত ৭টা ৫০ মিনিটে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সংসদের অধিবেশন মুলতবি করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।