Wednesday 01 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম পরিবর্তন নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য ‘উসকানিমূলক’: হেফাজত

সারাবাংলা ডেস্ক
২ এপ্রিল ২০২৬ ০৩:৩২

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। ফাইল ছবি

ঢাকা: পহেলা বৈশাখের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র নাম পরিবর্তন করে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ করার ‘প্রয়োজন ছিল না বলে’ সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী যে মন্তব্য করেছেন, তা ‘সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেছে হেফাজতে ইসলাম।

বুধবার (১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর রহমান এ প্রতিক্রিয়া জানান।

তিনি বলেন, “সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর বক্তব্যে আসন্ন পহেলা বৈশাখে সর্বজনগ্রাহ্য ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে পরিত্যক্ত সাম্প্রদায়িক ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ আয়োজনের কৌশলী প্রচেষ্টা ফুটে উঠেছে।”

বিবৃতিতে হেফাজতের মহাসচিব আল্লামা সাজেদুর বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমে উপস্থাপিত সংস্কৃতিমন্ত্রীর বক্তব্য সাম্প্রদায়িক ও ধর্মীয় উসকানিমূলক বলে আমরা মনে করি। এছাড়া আনন্দ শোভাযাত্রা ও মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্যে পার্থক্য নেই বলে তার দাবিটিও অজ্ঞতাপ্রসূত ও বিভ্রান্তিকর।’

বিজ্ঞাপন

এর আগে মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে সচিবালয়ে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় চিরায়ত ধারায় পহেলা বৈশাখ পালিত হবে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’র পরিবর্তে ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ নাম দেওয়ার কোনো প্রয়োজন ছিল না।”

সংস্কৃতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে হেফাজতে ইসলাম। তারা বলছে, “‘শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষ্যে দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ঐতিহ্য ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে পহেলা বৈশাখের মতো জাতীয় উৎসবে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমানদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা করলে ওলামায়ে কেরাম চুপ থাকবেন না। পহেলা বৈশাখে সনাতনীদের ধর্মীয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ মুসলিমদের ওপর চাপানো যাবে না।

বিবৃতিতে হেফাজতের মহাসচিব উল্লেখ করেন, “১৯৮৯ সালে ঢাবি চারুকলা বিভাগের উদ্যোগে পহেলা বৈশাখে সর্বপ্রথম ‘আনন্দ শোভাযাত্রা’ হয়। শুরু থেকেই এটির নাম ছিল ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। কিন্তু ১৯৯৬ সালে ইন্ডিয়ার পাপেট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার বছরে দেশের হিন্দুত্ববাদী কালচারাল সেক্যুলার ফ্যাসিস্টরা পহেলা বৈশাখ উদযাপনে নাম পাল্টে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ রেখে হাজার বছরের বাঙালি সংস্কৃতির ভুয়া দাবি প্রতিষ্ঠিত করে।”

বিবৃতিতে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব বলেন, ‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে নিতাই রায় চৌধুরীকে সংস্কৃতিমন্ত্রী বানানোর ক্ষেত্রে আমরা কোনো বিরোধিতা বা আপত্তি করিনি। কারণ, আমরা সাম্প্রদায়িকতা লালন করি না।’

কিন্তু মুসলমানদের ঔদার্যের সুযোগ নিয়ে হিন্দুত্ববাদী ও আধিপত্যবাদী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনকে যারা ফের সুযোগ করে দিতে চাইবে, জুলাইয়ের ছাত্র-জনতাকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করব দলটি।

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর