Sunday 22 Feb 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

মেয়র শাহাদাত বললেন
‘আমার মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত’

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:৩২

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি: সারাবাংলা

চট্টগ্রাম ব্যুরো: মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে নানামুখী আলোচনার মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী তিনি ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর হালিশহরে একটি খেলার মাঠ উদ্বোধন করতে গিয়ে মেয়র শাহাদাত হোসেন সিটি করপোরেশনের মেয়াদ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে একথা বলেন।

২০২১ সালের ২৭ জানুয়ারি ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ ওঠা এক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীকে ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোটে বিজয়ী দেখিয়ে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ঘোষণা করা হয়েছিল। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রাপ্ত ভোট দেখানো হয়েছিল ৫২ হাজার ৪৮৯। নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে ওই বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনি ট্রাইব্যুনালে রেজাউল করিমসহ নয়জনকে বিবাদী করে মামলা করেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির তৎকালীন আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন। মামলা চলমান থাকা অবস্থায় মেয়রের দায়িত্ব পালন করছিলেন রেজাউল করিম চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আত্মগোপনে চলে যান চসিক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী। অন্তর্বর্তী সরকার ১৯ আগস্ট মেয়র রেজাউল ও কাউন্সিলরদের অপসারণ করে। এরপর ১ অক্টোবর শাহাদাত হোসেনকে মেয়র ঘোষণা করে ওই মামলার রায় দেন আদালত। ৫ নভেম্বর তিনি মেয়রের দায়িত্ব নেন।

২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রেজাউল করিম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ষষ্ঠ নির্বাচিত পরিষদের প্রথম সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। আইন অনুযায়ী, প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর নির্বাচিত পরিষদের মেয়াদ। সে হিসেবে ২০২৬ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি অর্থাৎ আজ রোববার মেয়রের মেয়াদ শেষ হয়েছে।

এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র শাহাদাত বলেন, ‘আমি কোনো প্রশাসক নই, মেয়র। যেহেতু আমি একমাত্র মেয়র বাংলাদেশের এবং সেটা কোর্টের রায়ে আমাকে ঘোষণা করা হয়েছে, এখানে কেউ আমাকে ঘোষণা করেনি। কোর্ট অর্ডার দিয়েছে ২৯ সাল পর্যন্ত। কাজেই চাইলে ২৯ সাল পর্যন্ত আমি থাকতে পারব। প্রশাসক দিতে পারবে না। কারণ, প্রশাসককে বদলি করে আমি এসেছি। চট্টগ্রামে প্রশাসক ছিলেন। প্রশাসককে বদলি করে আমাকে মেয়র দেওয়া হয়েছে। কাজেই পরে আর প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই।’

আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রেজাউল করিম চৌধুরীর যে মেয়াদ, তার পুরোটাই অবৈধ ঘোষণা করেছেন আদালত। তাই যেদিন থেকে তিনি শপথ নিয়েছেন, সেদিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদ- এটা উনার। অর্থাৎ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বরের আগে আমার মেয়াদ শেষ হবে না। আর সরকার আমাকে যে কূটনৈতিক পাসপোর্ট দিয়েছে, তার মেয়াদও পাঁচ বছরের, দেড় বছরের নয়। তাই পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবো।’

‘কিন্তু জনগণের একজন প্রতিনিধি হিসেবে আমি চাই যে, একটা ইলেকশন হোক। যে নির্বাচনের প্রতীক্ষা আমি অনেক বছর ধরে করছি এবং আমি আমার জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাচ্ছি।’

মেয়র বলেন, ‘আমি বলছি যে, আমি নির্বাচন চাই। কাজেই এটা এখন দায়িত্ব হচ্ছে মিনিস্ট্রির, তারা নির্বাচন কী করে করবে। আমার এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তারা কিন্তু অলরেডি একটি চিঠি ইসিকে দিয়েছে।’

সারাদেশেই সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়া উচিত বলে মনে করেন শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি বলছি, চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের প্রতিটি সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়া উচিত। কেননা, প্রতিটি ওয়ার্ডে কোনো নির্বাচিত কাউন্সিলর না থাকায় যে পরিমাণ সার্ভিস জনগণের পাওয়ার কথা, সে পরিমাণ সার্ভিস জনগণ পাচ্ছেন না। আমি এ জন্য মনে করছিলাম, চট্টগ্রামসহ সারা বাংলাদেশের যে সিটি করপোরেশনগুলোর নির্বাচন দরকার, সেখানে অবশ্যই নির্বাচন দেওয়া উচিত এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা উচিত।’

বিজ্ঞাপন

আরো

সম্পর্কিত খবর