ঢাকা: বাংলাদেশে মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগে অকার্যকর দাঁত অপসারণ ও চোয়ালে আধুনিক সাবপেরিওস্টিয়াল ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট ইমপ্লান্টের একটি জটিল ও ব্যতিক্রমধর্মী সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) বিএমইউর জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রশান্ত মজুমদার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, রোববার (১২ এপ্রিল) একটি জটিল ও ব্যতিক্রমধর্মী সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ১৬ বছরের এক কিশোরী রোগী জন্মগত রক্তের রোগ থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত এবং পরবর্তীতে বিরল রোগ লিউকোসাইট অ্যাডহেশন ডিজিজ শনাক্ত হয়। এ অবস্থায় শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়, এতে গুরুতর পেরিওডন্টাইটিস দেখা দেয়। ধীরে ধীরে সকল দাঁত নড়বড়ে হয়ে পড়ে এবং কার্যকরভাবে খাবার চিবাতে না পারার কারণে তার সামগ্রিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। রোগীর মুখের স্বাস্থ্য পুনর্বাসনের জন্য সকল অকার্যকর দাঁত অপসারণ করে দুই চোয়ালে আধুনিক সাবপেরিওস্টিয়াল ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
প্রশান্ত মজুমদার জানান, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ডা. মাহমুদা আক্তারের আমন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন প্রফেসর ডা. শাহিদ আজিজ এই জটিল সার্জারিতে অংশগ্রহণ করেন। সফলভাবে দুই চোয়ালে সাবপেরিওস্টিয়াল ইমপ্ল্যান্ট স্থাপন করা হয়। অপারেশনটি লাইভ সার্জারি হিসেবে পরিচালিত হয়। ডেন্টাল ফ্যাকাল্টির ডীন সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্থ, ওরাল অ্যান্ড ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জারি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সাইফুল আজম রঞ্জু উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বিভাগের সকল শিক্ষক, মেডিকেল অফিসার ও রেসিডেন্টগণ এই গুরুত্বপূর্ণ সার্জারিতে উপস্থিত ছিলেন।
তিনি আরও জানান, এই চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীর মুখের সৌন্দর্য পুনরুদ্ধার এবং স্বাভাবিকভাবে খাবার চিবানোর সক্ষমতা ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে, যা তাকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে সহায়তা করবে। এই সফল উদ্যোগ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষতা, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং আন্তর্জাতিক অ্যাকাডেমিক সহযোগিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।