ঢাকা: বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন এবং শেরপুর-৩ আসনের সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ভোটাররা যাতে সহজেই তাদের ভোটকেন্দ্রের অবস্থান এবং ভোটার নম্বর খুঁজে পান, সেজন্য দুটি আধুনিক ও দ্রুততম মাধ্যম উন্মুক্ত করা হয়েছে।
বুধবার (৮ এপ্রিল) ইসির জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক এ সংক্রান্ত নির্দেশনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
পদ্ধতি-১: স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ
ভোটাররা এই অ্যাপের মাধ্যমে ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানতে পারবেন। এজন্য ভোটারকে প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি অ্যাপ ডাউনলোড করে ইনস্টল করতে হবে। অ্যাপটি ইনস্টলের পর ড্যাশবোর্ড থেকে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ সিলেক্ট করে ‘ভোট কেন্দ্র খুঁজুন’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। এরপর এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ ইনপুট দিয়ে অনুসন্ধান করলে ভোটার নম্বর, ভোটার ক্রমিক নম্বর, ভোটকেন্দ্রের নাম ও কেন্দ্রের ঠিকানা প্রদর্শিত হবে।
পদ্ধতি-২: হটলাইন নম্বর ১০৫
ভোটার নম্বর ও ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানার জন্য বাংলাদেশের যেকোনো ভোটার হটলাইন নম্বর ১০৫-এ কল করতে পারবেন। এ পদ্ধতিতে তথ্য জানতে ভোটারের এনআইডি নম্বর ও জন্ম তারিখ প্রয়োজন। এজন্য এসব তথ্য হাতে নিয়ে হটলাইন নম্বর ১০৫-এ কল করতে হবে।
ইসির তফসিল অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসন দুটিতে একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ আগেই জয়যুক্ত হওয়ার এখন আর ভোট হবে না।
বগুড়া-৬
এই আসনে নির্বাচনের প্রার্থীরা হলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) মো. আল-আমিন তালুকদার।
এ আসনে ১৫০টি ভোটকেন্দ্র ও ৮৩৫টি ভোটকক্ষে মোট ৪ লাখ ৫০ হাজার ৩০৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবেন।
নির্বাচনে সেনাবাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ২৫০ জন, বিজিবি ৮ প্লাটুন (১৮৯ জন), র্যাব ১০টিম (৭০ জন), পুলিশ ১৩২৭ জন ও আনসার ভিডিপি ১৯৯০ জন সদস্য নিয়োজিত করা হয়েছে।
শেরপুর-৩
এই নির্বাচনে বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল, জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান মাসুদ এবং বাসদ (মার্কসবাদী) প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান প্রতিদ্বদ্বিতা করছেন।
এ আসনের ১২৮ টি ভোটকেন্দ্রের ৭৫১টি ভোটকক্ষে ৪ লাখ ৯ হাজার ৮০৬ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
ভোটের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ১৪০ জন সদস্য, বিজিবি ১৬ প্লাটুন (৩২৮ জন), রবের ১৪টিম (১৩৫ জন), পুলিশ ১১৫৫ জন ও আনসার ভিডিপি ১৭০৪ জন সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।
এদিকে ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ও গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনায় বিভিন্ন বাহিনীর ১৮ থেকে ২০ জন নিরাপত্তা সদস্য থাকছে। নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োজিত রয়েছে ৩৬ জন। ইসির নিজস্ব পযবেক্ষক মোতায়েন থাকছে ১৮ জন করে। এছাড়া স্থানীয় সংস্থার পযবেক্ষক আছে চার শতাধিক।
১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২৯৯ আসনের ভোট হয়। এসময় বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দু’টি আসনে নির্বাচিত হন। এর মধ্যে বগুড়া-৬ আসন তিনি ছেড়ে দেওয়ায় এখন উপ-নির্বাচন করতে হচ্ছে ইসিকে।
আর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আট দিন আগে শেরপুর-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়ায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) এই আসনের নির্বাচন স্থগিত করে।