Monday 06 Apr 2026
Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment

সংসদে ৭ বিল পাস

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
৭ এপ্রিল ২০২৬ ০০:২৯

জাতীয় সংসদ ভবন। ফাইল ছবি।

ঢাকা: নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ক্ষমতা বাড়িয়ে ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) বিল’ ও ‘ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল’সহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

সোমবার (৬ এপ্রিল) ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস হয়।

পাস হওয়া বিলগুলোর বেশিরভাগই অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশ। আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলগুলো পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন।

বিলগুলোর ওপর কোনো সংশোধনী না থাকায় সরাসরি ভোটে দেওয়া হয় এবং তা পাস হয়। বিলগুলো হলো—

১. রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল (আরপিএ)।
২. জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ (সংশোধন) বিল।
৩. নির্বাচন কমিশন সচিবালয় (সংশোধন) বিল।
৪. নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) (সংশোধন) বিল।
৫. ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল।
৬. বাংলাদেশ ল’ অফিসার্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল।
৭. জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তীকালীন বিশেষ বিধান) রহিতকরণ বিল।

বিজ্ঞাপন

এ দিন অধিবেশনে ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল-২০২৬’ উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী। তবে বিলটিতে একটি বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের জারিকৃত অধ্যাদেশে ‘তিন বা ততধিক ফসলি কৃষিভূমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ’ এবং ‘এক ও দুই ফসলি জমিতে তামাক চাষ সীমিত’ করার বিধান ছিল। কিন্তু সংসদে উত্থাপিত নতুন বিলে তামাক চাষ বন্ধের এই ধারাটি বাদ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, নতুন বিল অনুযায়ী তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষে আইনি বাধা থাকছে না।

বিলে বলা হয়েছে, অনুমোদন ছাড়া জমির জোন পরিবর্তন, কৃষি জমি অকৃষি কাজে ব্যবহার, জলাশয় ভরাট করে বাণিজ্যিক আবাসন বা রিসোর্ট নির্মাণ এবং ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য কৃষি জমির উপরিভাগের মাটি (টপ সয়েল) কাটা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এসব অপরাধের বিচার হবে প্রথম শ্রেণির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে। তবে জাতীয় প্রয়োজনে খনিজসম্পদ বা প্রত্নসম্পদ অনুসন্ধানের জন্য সীমিত পরিসরে কৃষি জমি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া যাবে।

অধিবেশনে আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (রহিতকরণ) বিল, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ (রহিতকরণ) বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল উত্থাপন করেন। তবে এসব বিলে বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের ‘নোট অব ডিসেন্ট’ বা আপত্তি থাকায় সেগুলো এদিন পাস না করে কেবল উত্থাপন করা হয়। আইনমন্ত্রী অনুরোধ করেন, পরবর্তী সময়ে যেন এগুলো নিয়ে বিস্তারিত বিতর্কের সুযোগ রাখা হয়।

বিলের কপি তিন দিন আগে না পাওয়ায় জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান পয়েন্ট অব অর্ডারে আপত্তি জানান। জবাবে স্পিকার জানান, বিশেষ ক্ষমতা বলে এই সময় মওকুফ করা হয়েছে।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম জানান, ১৩৩টি অধ্যাদেশ আগামী ৯ এপ্রিলের মধ্যে পাস করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই সময় বাঁচাতে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) থেকে দিনে দু’বেলা অধিবেশন চলবে এবং প্রয়োজনে শুক্রবারও সংসদ বসবে।

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে অনুমোদনের সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তীতে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে অধিকতর শক্তিশালী করে নতুন বিল আকারে আনার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। চারটি অধ্যাদেশ রহিতকরণ ও হেফাজতের জন্য এখনই সংসদে বিল আকারে উত্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/এমএমএইচ/পিটিএম