ঢাকা: সরকার ৫ এপ্রিল সিদ্ধান্ত জানাতে পারে যে শ্রেণীকক্ষের পাঠদান অনলাইনে হবে কিনা এবং সরকারি ছুটি একদিন বৃদ্ধি করে এমনকি অনলাইনে অফিস আদালত পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত। এ অবস্থায় বিশেষ করে বাংলাদেশ প্রস্তুত কিনা এ বিষয়ে নানান মতামত রয়েছে।
শনিবার (৪ এপ্রিল) বিকেল ৩ টায় বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ এ তথ্য জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন মনে করে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো বিদ্যমান রয়েছে। সাংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ তার সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার পথে অনলাইন ভিত্তিক শিক্ষা ও অফিস ব্যবস্থার গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। বিশেষ করে করোনা মহামারি আমাদের দেখিয়েছে, জরুরি পরিস্থিতিতে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মই হতে পারে কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার একমাত্র ভরসা।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার উল্লেখযোগ্য হলেও, মানসম্মত সেবা এখনও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেটের গতি কম এবং সংযোগ অস্থিতিশীল। এতে শিক্ষার্থী ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যে একটি ডিজিটাল বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। ডিভাইসের অভাবও একটি বড় সমস্যা। অনেক শিক্ষার্থী এখনও স্মার্টফোন বা কম্পিউটার সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পাশাপাশি, ডিজিটাল দক্ষতার অভাব বিশেষ করে শিক্ষক ও প্রথাগত অফিস কর্মীদের মধ্যে অনলাইন ব্যবস্থাকে পুরোপুরি কার্যকর হতে দিচ্ছে না।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক কমিশন এবং সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন। সাশ্রয়ী ইন্টারনেট, ভর্তুকিযুক্ত ডিভাইস, এবং দেশীয় নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সচেতনতার বড় ঘাটতি রয়েছে। মোবাইল ইন্টারনেটের মূল্য সাধারণ জনগণের সাধ্যের বাইরে রয়েছে বর্তমানে। কেরি ফরওয়ার্ড থাকলেও গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী অব্যবহৃত ডাটা ব্যবহারের সুযোগ এখনো তৈরি হয়নি। তাই সরকারকে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট তৈরি করা পাশাপাশি অব্যবহৃত ইন্টারনেট ডাটা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করে দিতে হবে। মূল্য সহনীয় পর্যায়ে আনতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে পরিশেষে বলা হয়, বাংলাদেশ অনলাইন ক্লাস ও অফিস পরিচালনায় সম্ভাবনাময় অবস্থানে রয়েছে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ, সঠিক নীতি এবং জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।